ads
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

পিলখানা ট্রাজেডি: ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কথা

জোবায়েদ হোসেন, ডুয়েট প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২৫ ফেব্রুয়ারি—ঐতিহাসিক পিলখানা ট্রাজেডি দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও নারকীয় অধ্যায়।

২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় অবস্থিত তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে ভয়াবহ এক বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস সামরিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত।

সেদিন তিন দিনব্যাপী “বিডিআর উইক” উদযাপন চলাকালে বিডিআর সদস্যদের একাংশ অস্ত্রধারণ করে বিদ্রোহ শুরু করে এবং দরবার হলে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। বিদ্রোহীরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর গুলি চালায়, অনেককে নির্যাতন করে হত্যা করে এবং লাশ লুকানোর চেষ্টা করে।

এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে মোট ৭৪ জন নিহত হন। এর মধ্যে ৫৭ জন ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা। নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক ব্যক্তিরাও ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

ঘটনার দ্বিতীয় দিনে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, তৎকালীন আওয়ামী সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহীরা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমর্পণ করে। এভাবে দুই দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে লে. কর্নেল কামরুজ্জামান করুণ ও বেদনাবিধুর কণ্ঠে বলেন—

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিলো মহাপরিচালকের, যদি তখন আপনি সেনাবাহিনী বা র‍্যাব পাঠাতেন, আমার অফিসাররা মরতো না। তারা দরবার হলে ঢুকেছে আধা ঘণ্টা পরে এবং কিলিং শুরু করেছে পৌনে এগারোটা থেকে এগারোটার পরে। তার আগে কাউকে মারে নাই। তখন যদি আমাদের সেনাবাহিনী প্রধান একটা ট্যাংক পাঠাতো, কিন্তু কেউই গেল না। অসহায়ের মতো আমার অফিসারগুলোকে মেরে ফেললো।”

এছাড়া, বিজিবির সাবেক ডিজি লে. জে. (অব.) মইনুল ইসলাম মন্তব্য করেন যে, ইন্ডিয়ার ইন্ধন ও রাজনৈতিক মদদে পিলখানা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন—

“ইন্ডিয়া সবসময়ই চেয়েছিল, কীভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা যায়। পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল মোক্ষম সময়। সেনাবাহিনীর সবগুলো মেধাবী কর্মকর্তাকে দুই দিনের মধ্যে গুলি করে মেরে ফেলা হলো।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি ও অস্ত্রাগারের পরিবেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল এটি পরিকল্পিত ঘটনা এবং ঘটনার পেছনের লোকজন ২০–২১ দিন আগেই সেখানে ঢুকেছিল।

কী ভয়ানক কথা! যখন একটি রাষ্ট্রযন্ত্র পরিকল্পিতভাবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও মদদে বেছে বেছে মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের নিধনে নামে, তখন বাকরুদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

আজ নৃশংস এই পিলখানা ট্রাজেডির ১৭ বছর চলছে। অথচ এই জাতি দৃশ্যমান কোনো বিচার এখনো দেখেনি। আর কত? পিলখানা, শাপলা, জুলাই গণহত্যা—আর কত রক্ত ঝরালে এ জাতি ভিনদেশি আধিপত্য ও স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পাবে?

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।