পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখেছেন: আর্শিনা ফেরদৌস
বই–সুস্থতার সন্ধানে: লেখক ডা.শুভাগত চৌধুরী
ডা.শুভাগত চৌধুরীর লেখা “সুস্থতার সন্ধানে” বইটি হাতে পেলাম চমৎকার প্রচ্ছদ চোখে লাগলো, প্রচ্ছদ করেছেন ফরিদি নুমান,
উৎসর্গ করেছেন,” সর্বাঙ্গীন কুশল কামনা করেন যারা তাদের উদ্দেশ্যে ” নামকরণটি সরল সুস্থ জীবনের মাপকাঠি। সকলের কাম্য একটি সুস্থ রোগমুক্ত কর্মক্ষম শরীর। সেই দারুণ সুস্থতার জন্য আমাদের মেনে চলতে হবে কিছু ডাক্তারি বিজ্ঞান দর্শন সম্বলিত পরামর্শ, লেখক ডা.শুভাগত চৌধুরী চেষ্টা করেছেন তার সর্বশ্য দিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য কুশল সুস্থতা জানাতে।
একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও তার লিখিত জীবন দর্শনের দেখা পেয়েছি বইয়ের প্রতিটি পাতায় অক্ষরে। বিন্যাসে আলো ছড়িয়েছেন স্বাস্থ্য কুশলের নানা বিচিত্র বিভাগে ।আমাদের দৈনন্দিন জীবন সুস্থ সুন্দর করে তুলতে তার প্রতিদিনের অবদান সোসাল মিডিয়ায় চোখে পড়ার মত।
তার লেখা আরও ৭০টি বই আমাদের সম্পদ। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ তেমনটি লেখক স্যার শুভাগত চৌধুরীকে তাঁর লেখা কে তুলে ধরার সাহস করলাম আমার জন্য এটি বিরাট অভিজ্ঞতা। ডা.শুভাগত চৌধুরী কে শ্রদ্ধা ধন্যবাদ। সুস্বাস্থ্য নামের সম্পদের অধিকারী হতে চাইলে যত্নশীল হতে হবে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি। মেনে চলতে হবে কিছু নিয়মকানুন!
সুস্বাস্থ্য কি?
সুস্বাস্থ্য কি- এই প্রশ্নের উত্তরে প্রতি দশ জনের আটজন বলবে কোনো রোগ না হওয়াই সুস্বাস্থ্য, আর চারজন এখনও বলবে- সুস্বাস্থ্য মানে স্লিম বা মোটা হওয়া। এর মূল কারণ হচ্ছে- এটি নিয়ে ঠিকঠাক সচেতনতা তো দূরে থাক, যথেষ্ট জানাশোনাও নেই আমাদের। সুস্বাস্থ্য কি শুধুই কি শারীরিক সুস্থতা?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র সুস্বাস্থ্যের সংজ্ঞায় শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার কথাও বলা আছে। অর্থাৎ, সুস্বাস্থ্য হচ্ছে একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক, ও সামাজিকভাবে সুস্থ থাকা।
কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলার মাধ্যমে যা বজায় রাখা বেশ সহজ!
অধ্যাপক ডা.শুভাগত চৌধুরীর বই,” সুস্থতার সন্ধানে ” হাতে পেলাম শারিরীক কুশল বর্ননা করেছেন এই বইটিতে, দশটি অধ্যায়ে তুলে এনেছেন দৈনন্দিন কুশলের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশের বিভিন্ন কুশল এনালিসিস করেছেন সেগুলো বিভিন্ন ফর্মে। যা স্বাস্থ্য খাতে আলোড়ন আনতে পারে, ঔষধের ব্যাবহার কমিয়ে নিজের প্রতি নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ধাপগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে পড়তে হবে,” সুস্থতার সন্ধানে “।
কুশল মানেই আমরা বুঝি সামাজিক একটি আচরণ অন্যের প্রতি, ভাল আছেন? অর্থাৎ যেকোনো বিরুপ অবস্থায় তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন কিনা নিয়মিত সব কর্মকাণ্ডে শরীর মন যেমনই থাক।
ডা.শুভাগত চৌধুরী কুশল বলতে লিখেছেন, কুশল মানে সুস্থ থাকা আবেগিকভাবে,
আধ্যাত্মিক ও সামাজিকভাবে।
অতিমারী করোনা বা দেশের ভিতরে কিছু নিত্য ব্যাধি বিস্তার লাভ করেছে, ডেংগু, ম্যালেরিয়া নিউমোনিয়া, এই রোগের সময়ে এই কুশল কথাটির তাৎপর্য ছিল।
স্বাস্থ্য কুশলের কয়েকটি পর্যায় আছে :
স্বাস্থ্য কুশলে দরদ ও মমতা, – সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রাক সেবা, প্রোএকটিভ এবং সবার উপরে এই ব্যবস্থাটি হবে দরদমাখা। যেহেতু ক্রনিক রোগ গুলো ও নীরব মহামারীতে কিছু ভাবনা আসছে বিগত বছরগুলোতে।
Wellness shift form illness to wellness.
আরও বিস্তারিত বর্ননা।
কুশলের মূলনীতির প্রসঙ্গে বলেছেন প্রতিরোধ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য, কুশলের বহুমাত্রিকতা– দৈহিক, মানসিক, আবেগিক আধ্যাত্মিক, সামাজিক, পরিবেশগত ডাক্তাররা সম্ভবত: স্বর্গে গেলেও ধান ভানার মত চিকিৎসা দেওয়ার মত কর্তব্য করে থাকেন এজন্য তারা ২য় দেবতা। আশাকরি নিজের স্বাস্থ্যেগত কুশল বজায় রেখে শরীরের বিভিন্ন কুশল নিয়ে লিখেছেন লেখক, সবাইকে যিনি একটি স্থিতিশীলতা দিয়ে থাকেন।
ছুটির অবকাশে কাজ নিয়ে মন বাইরে থাকবে বলেছেন সবাই স্ট্রেস এর উপর থাকে, লেখক বলেছেন, বিয়ের আগেরদিন ও হাসপাতাল থেকে ফোন এসেছিল। কভিড–১৯ অতিমারিতে করোনাযোদ্ধারা প্রচন্ড চাপের মধ্যে বার্ণ আউট হয়ে গিয়েছেন। কারণ একটাই কাজের প্রতি নিরাপত্তার বিষয়টি। তাদের শিক্ষা আমরা কাজে লাগাবো।
বইটির বিশালতা সম্পর্কে জানতে আরও পড়তে হবে কুশল নিয়ে, তাই যে বিষয়গুলো উপেক্ষা করা যায় না সেগুলো অকপটে লেখক সরলতার সাথে জানিয়েছেন।
প্রকৃতিকে আলিঙ্গন,– এবিষয়ে “পোজেন এর পরামর্শ হল,” ভালো থাকতে হলে অবলোকন করুন ঝরণা, সাগরতীরে বসে থেকে লক্ষ্য করুন ঢেউয়ের আসা যাওয়া, এমন পরিবেশ মনে কমল ছন্দ আনে,উৎসাহ উদ্দিপনা বাড়ে। পাওয়া যাবে আত্মিক কুশলের স্পর্শ।
স্বাস্থ্যকর বন্ধুত্বের শক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন যা পিতামহ মা-বাবারা আমাদের ভাল মন্দ শিখিয়ে থাকেন শৈশবে, সামাজিক, নৈতিক, নীতিকথা পছন্দ অপছন্দ বুঝতে শিখি। ভিতরের আমিকে ঋদ্ধ করে হিতকর বন্ধুত্ব। এই বন্ধুত্বে কিশোরবেলা থেকে তরুণ বৃদ্ধ বয়সের চমৎকার সব আত্মিক বর্ননা দিয়েছেন। পশুজাত বন্ধুত্ব গবেষণায় দেখা গিয়েছে বানরের মত বুদ্ধিমান প্রাণী বিভিন্ন আবাস ও আশ্রয়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয় আর মানুষের মত তারা গোষ্ঠিতে মানিয়ে নিতে পারে।
মানুষের জীবনের নানা পর্যায়ের বন্ধুত্ব আমরা দেখি, সোসাল মিডিয়ার কাছে আমরা নত এখন, সেই সাথে সহকর্মী থেকে শুরু করে পরিবারের সাথে, বন্ধুর চেয়ে বেশি সময় কাটে। ফেসবুকে তা হয়েছে ব্যপক। বৃদ্ধজনের কুশলে শুভাগত চৌধুরী বলেছেন শ্বাসক্রিয়ার কথা, নাক দিয়ে শ্বাস–প্রশ্বাসের ভালো ফল।
কর্মদিবসের কুশল, উপদেশ দিয়েছেন হেঁটে কথা বলতে, ৩০মিনিটের কল হলে হেডফোন কানে পায়চারী করে কথা বলতে । বলেছেন সবুজে হেঁটে স্বাস্থ্য ভালো করে বিভিন্ন কাজের উচ্চতর সম্ভাবনা গড়ে তুলতে। কিছু হালকা যোগ ব্যায়াম, যথেষ্ট জলপান প্রাত:কৃত সময়মত করতে ইত্যাদি। করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে আমরা অনেক রকম অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেছি তাই শরীর এখন সংকেত দিলে সেটি শুনতে হবে কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে।
ডা.শুভাগত চৌধুরী লিখেছেন অনেক প্রায় ৭০টি বইয়ের অনন্য লেখক তিনি। অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে জীবনে পড়াশোনা করেছেন সেই বিক্ষুব্ধ পাকিস্তান শাসনকালে। মা ছিলেন হাইস্কুল শিক্ষক পাকিস্তানি শাসকদের নজরে পড়ে বারবার তাকে বদলির কষ্ট করতে হয়েছে যার ফলে স্কুলের প্রধান পরীক্ষাগুলোতে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনা ঘটেছিলো লেখকের মেট্রিক পরীক্ষার একমাস আগে পড়ার নোট হারিয়ে যাবার মত। তিনি ঝরে যেতে পারতেন, অথচ তিনি উৎরে গিয়েছেন। বিদূষী মা মঞ্জুশ্রী চৌধুরী, বড় সন্তান শুভাগত চৌধুরীকে ছয় বছর বয়সে শান্তি নিকেতনের পাঠভবনে পাঠিয়েছেন ১৯৫২ সালে। বইপড়ার সেই দারুণ অভ্যাসটা মায়ের কাছে শেখা। আজকের শুভাগত চৌধুরী আমরা পেয়েছি একজন সফল চিকিৎসক লেখক মানবিক মানুষ।
“সুস্থতার সন্ধানে” বইটিতে আরও কিছু বিষয় রয়েছে, কিছু প্রয়োজনীয় অধ্যায় সেগুলো আলোচনা করছি।
কুশলের ৬টি মাত্রার কথা বলেছেন কর্মপন্থা ও জীবনযাপন কে গ্লোবাল ওয়েলনেস ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা,
এর এলাকা গুলো হল সার্বিক কুশলের বিভিন্ন মাত্রা, শারীরিক মানসিক আধ্যাত্মিক আবেগগত সামাজিক ও পরিবেশগত কুশল।
সামগ্রিক ভাবে ভালো থাকার উপলব্ধি। সামাজিক সম্পর্ক ভালো রেখে শরীরচর্চা, সুষম খাবার, ভালো ঘুম, মগ্নতা চর্চা এগুলো জীবনযাপনের বহুমাত্রিক স্বরুপ। এই মাত্রাগুলো নিজেকে রক্ষার কুশল সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে বাস, শারীরিক প্রভাব আছে এতে, স্বাস্থ্য রোগের ঝুঁকি ও স্বাস্থ্য পরিনতির ৮০–৯০ ভাগ শতাংশের পেছনে রয়েছে পরিবেশগত সামাজিক ও জীবন শৈলীর উপাদানগুলো। যেখানে শিশু কিশোর বৃদ্ধ পঙ্গু ও দরিদ্র জনগন এসব উপাদানে বেশি ভঙ্গুর। বইটি পড়তে পড়তে হারিয়ে গেছি, কখনো দৈহিক কুশলে, শরীরের পরিশ্রম খেলাধুলা শরীরচর্চা বিশেষ একটি পর্যাপ্ত এনার্জিপ্যাক নিয়ে ।
A wise man ough to realise that health is the most valuable possesion.
এমনসব স্বাস্থ্য অভ্যাস ইতিবাচক ফল আনে, ভাল আছি কুশলে আছি। এসব চর্চায় রোগের ঝুঁকি কমে, আর শরীরে বল শক্তি বৃদ্ধি পায়। ডা.শুভাগত চৌধুরী,” সুস্থতার সন্ধানে ” বইটিতে একটা পুর্নাঙ্গ বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য রক্ষার জীবন সুচি দিয়েছেন। শরীরচর্চা সবাইকে সেই স্বাস্থ্য সুচিতে রাখতে বলেছেন, শিশু কিশোর বৃদ্ধ মধ্য বয়স সবাইকে।
শরীর চর্চা :
শরীরে বাড়ায় শক্তি
পোড়ায় ক্যালোরি
হৃদস্বাস্থ্য করে উন্নত
মেজাজ করে চনমনে
মগজের স্বাস্থ্য করে উন্নত
জার্নাল অব জেরোন্টলজিতে কম্যুনিটিভিত্তিক একটি কহোর্ট স্টাডিতে দেখানো হয়েছে, সপ্তাহে অন্তত পাঁচঘন্টা শরীরচর্চা করলেও অংশগ্রহণকারীদের মানসিক ক্ষমতা বেশ বেড়েছে, আর এতে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া রোগ ঝুঁকি ও কমেছে। ইয়োগা শিক্ষক যাদব বলেন শরীরচর্চা বিশেষজ্ঞ নির্দেশনায় করা উচিত।
মানসিক কুশল নিয়ে বইয়ের শেষ দিকে একটি অধ্যায় রয়েছে। লেখক অসাধারণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। মানসিক কুশল হল অন্তর্নিহিত শক্তি যা আমাদেরকে ভাবতে অনুভব করতে যুক্ত হতে কর্মে নিয়োজিত হতে সাহায্য করে। এটি যার যার সম্পদ, গতিশীল, পুনঃনবায়নযোগ্য ও ইতিবাচক শক্তি। এমন একটি প্রক্রিয়া আমাদের কোনকিছু ঘটার আগেই সক্রিয় প্ররোচিত করে সতর্ক করে আর সঞ্চারনশীল করে। মন আমার দেহঘড়ি আমরা জানি মনই আসল সবকিছুর উর্ধে থাকে।
মানসিক কুশলের কয়েকটি ধাপ রয়েছে :
চিন্তা, মানসিক আঙ্গিক
সংযোগ, সামাজিক দিক
ইমোশনাল দিক
কার্যকরি হওয়া মনোগত দিক মন ভালো না থাকলে সবকিছুই অচল হতে পারে। পৃথিবী বাসযোগ্য থাকেনা নিজেকে শেষ করার একটা প্রবণতা দাঁড় করে মানসিক রুগী। মানসিক কুশল হল প্রতিরোধের প্রতিজ্ঞা নিয়ে জীবনের বিপর্যয়ের মোকাবিলা করা। চাপের মুখে সামলে ঘুরে দাড়ানো, চাপে নুয়ে না পড়ে ঠেকানো, ক্রোধ একাকিত্ব দূশ্চিন্তা দুঃখ অনুভব করে সামলে দাঁড়ানো।
মানসিক শক্তি বড় শক্তি। তার মানে সুখী বোঝাতে নয়। জীবনে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার শক্তি টা থাকে যেন।
মানসিক কুশল বাড়াতে আমরা যা করতে পারি :
পরিবার বন্ধু দের সময় দিন। টিভি বন্ধ করে কথা বলুন হাসপাতালে স্কুলে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করুন। দূরের পরিচিত বা কাছের মানুষদের সাথে অনলাইনে যুক্ত থাকুন। তবে সামাজিক মাধ্যমে বেশি সময় না দিতে পরামর্শ করেছেন।
নিজের আত্মমর্যাদা বাড়াতে হবে, শরীর সক্রিয় রাখতে। লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে সেখানে পৌঁছাতে নিজেকে সাহায্য করতে হবে। আর কিছু ব্যায়াম, মননশীলতা চর্চা, কাজ ও জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা, মগ্নতা, স্বাস্থ্যকর খাবার, আর অন্যদের দিতে হবে হাত ধরে। “হৃদয় আমার চায় যে দিতে শুধু নিতে নয় “আধ্যাত্মিক কুশল নিয়ে লিখেছেন। সেখানে ধর্ম গোত্রের কোন বাধা নেই। আছে ধ্যান গম্ভীরতা পরমেশ্বরএর প্রতি মানসিক শান্তি অর্জনের জন্য। আমাদের জীবনের গভীর অর্থ, উদ্দেশ্য, স্বস্তি আশা ও অন্তর্গত শান্তি সন্ধানের পথ হল আধ্যাত্মিকতা। সরল স্বিকারোক্তি জানিয়েছেন, শুভাগত চৌধুরী তখন তিনি যেন এক সরব দার্শনিক, ” জীবনের অভিজ্ঞতা যখন বিহ্বলকারী প্রগাঢ় ও আনন্দময় হয়ে ওঠে তখন মনে প্রশ্ন জাগে, এর সৃষ্টিকর্তা কে?
জীবনের উৎস বা প্রক্রিয়া জানতে চাইলে মানতে হবে যে নিকটতম সৃষ্টির নজির নিজের শরীর। নিজের মধ্যে সৃষ্টি উৎসের সন্ধান খুঁজে পেলে তা হল আধ্যাত্মিকতা। যতটা পড়েছি তাঁর লেখা মগ্নতায় বিভোর থেকেছি অনন্য এক দর্শন ছড়িয়ে আছে বই জুড়ে।
সামাজিক কুশল নিয়ে বিস্তৃত হয়েছে লেখকের মননের রাজ্য, অপরিসীম পরিশ্রম কে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে নিহিত সামাজিক কুশল। অন্যদের সাথে কিভাবে চলছি,কেমন সম্পর্ক তাদের সাথে একটা পরিমাপ হল সামাজিক কুশল। সামাজিকভাবে সুস্থ হলে সম্পর্ক হবে মমতায় গড়া, অন্যের অধিকারকে সম্মান দিতে হবে, প্রয়োজনে সাহায্য দেয়া নেয়া করা পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা বন্ধু বানানো ও বন্ধুত্ব বজায় রাখা অন্যদের কাছে নিজের চাহিদা জানানো এসব সামাজিক কুশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা কখনো উপেক্ষা করি ধনী গরীব ভেদাভেদ করি,অন্যের সাথে সুসম্পর্ক গড়া ও বজায় রাখার ক্ষমতা হলো সামাজিক কুশল। আরও বিস্তারিত জানতে বইটি পড়ুন। পরিবেশগত কুশল নিয়ে লিখেছেন, আর আবেগ গত কুশল।
পরিবেশ এর প্রভাব আমাদের উপর পড়ে। কিভাবে থাকি, নিরাপদ পরিবেশ আমাদের স্বস্তি দেয় এই অনুভব পরিবেশগত কুশল।
প্রতিটি মানুষের আছে অনুভূতি– দৈহিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া।
কোনকিছুর প্রতি যে প্রতিক্রিয়া হয় তাকে প্রভাবিত করে অনুভূতি, আমাদের অন্তরের অনুভূতির প্রকাশ হল আবেগ বা ইমোশন।
নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানলে নিজেকে আরও জানা যাবে
রাগ হলে মুখ লাল হয়ে পেশি টানটান হয়ে যাবে কোন বিন্দুতে আঘাত করতে ইচ্ছে করবে এগুলো দৈহিক প্রক্রিয়া।
অপর দিকটা হল মানসিক, কেমন আবেগ হল এতে বোঝা যাবে। আবেগজাত কুশলের কৌশল রয়েছে
ঘুরে দাড়ানোর শক্তি অর্জন
বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে সমস্যা কে দেখা
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চর্চা
রাতে চাই ভালো ঘুম
কমাতে হবে মনের চাপ
নিজেকে ভালো রাখা
বইয়ের শেষ অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ, মানুষের মনের না বলা অভিযোগগুলো পরীক্ষা গবেষণার মাধ্যমে লেখক শুভাগত চৌধুরী বর্ননা করেছেন। আবারও একটা সমৃদ্ধ বইয়ের জন্য লেখক কে ধন্যবাদ।
২০২২ এর ২১ শে পদক প্রাপ্ত এই চিকিৎসা বিজ্ঞানী আমাদের গৌরব বয়ে এনেছেন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চিকিৎসা বিজ্ঞানের অঙ্গন থেকে। বহুকাল মেডিকেল কলেজ গুলো তে শিক্ষকতা করেছেন। প্রচুর মেডিকেল জার্নাল লিখেছেন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চিকিৎসা সাময়িকি ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠসুচিতে। গবেষণা করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন চিকিৎসা বিদ্যাপিঠে ল্যাব এ।
লেখক শুভাগত চৌধুরীর এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় একটা বিরাট দ্বায়িত্ব নিয়ে সবকিছু জানিয়েছেন আর আমার সৌভাগ্য শৈশবের আমার মত অনেকেরই প্রিয় লেখকের বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। আমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বইটি নিয়ে কিছু কথা ও লেখকের মুল্যবান নির্দেশনাগুলো জানছি ও কৃতজ্ঞ চিত্তে সবাইকে বইটি সংগ্রহ করার অনুরোধ করছি।
বই–সুস্থতার সন্ধানে
মাতৃভাষা প্রকাশ, প্রকাশিত
প্রচ্ছদ, ফরিদী নুমান
লেখক ডা.শুভাগত চৌধুরী
Professor Dr Subhagata Choudhury
Ex. Director, Lab Science, BIRDEM
Ex. principal, Chittagong Medical College
Ex. Dean Faculty of Medicine, Chittagong University
পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখেছেন: আর্শিনা ফেরদৌস

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।


