ads
ঢাকামঙ্গলবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

পরিবর্তনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবন ঘটানোর সামান্য দাওআই: ডাঃ এম, এ, মোমেন

সংবাদ লাইভ
অক্টোবর ২৯, ২০২৪ ১২:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এম. এ. মোমেন: রাস্তায় হাটতে হাটতে আমার অতি কাছের এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল। তার অতি সাধারণ জীবন যাপন আমাকে বিস্মিত করেছে। একদিন জিজ্ঞেস করলাম, বন্ধু তুই এতো সাধারণ জীবন বেছে নিলি কেন? তোর তো অনেক ক্ষমতা। সে হাসলো তারপর কয়েকটি কথা বলল-

১. চাকুরির (সচিব) শুরুতে বেশ কয়েক বছর ক্ষমতার উত্তাপ বেশ উপভোগ করতাম। বাড়তি খাতির বেশ আনন্দ দিতো- পরিবার আত্মীয়স্বজনদের সামনে ভাব নিতে সুবিধা হতো।

২. মসজিদ মাদ্রাসা কমিটি’র সভাপতি/সদস্য ছিলাম। তাও চাকুরির কারণে- নরমালি মসজিদ মাদ্রাসা কমিটি’র সভাপতি/সদস্য হতে হলে লাখ লাখ টাকা লাগে বা দান করতে হয়।

৩. ডাক্তারের কাছে গেলে সিরিয়াল ভেঙ্গে চেম্বারে ঢুকে যেতাম। আগেই খবর দেওয়া থাকতো- সবাই অপেক্ষা করতো কখন আমি পৌঁছাব?

৪. বিশাল গাড়ির ঠান্ডা হাওয়ায় বসে ভাবতাম, এই না হলে চাকুরি!

**তারপর একদিন অফিস শেষে বাড়ি ফেরার সময় দেখলাম আমার এক অতি ক্ষমতাবান রিটায়ার্ড বস পার্কভিউ হোটেলের সামনে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। হাতে আধময়লা একটি ফাইল। কেউ তার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।দুম করে মাথায় কয়েকটি প্রশ্ন এলো-

১. চাকুরির বাড়তি খাতির কদিনের জন্য?

২. মসজিদ মাদ্রাসা কমিটি’র সভাপতি/সদস্য বা সালিশ বোর্ডের সদস্য কদিনের জন্য?

৩. ভিআইপি সুবিধা কদিনের জন্য?

৪. ডাক্তার কতদিন সিরিয়াল ভেঙ্গে আমাকে দেখবেন?

৫. বিশাল গাড়ির ঠান্ডা বাতাস কদিনের জন্য?

উত্তর একটাই- যতদিন চাকুরি (সচিব) আছে ততদিন। তারপর!!!! তারপর আমি নো বডি।।।। তাহলে এই যে এত আরাম আয়েসে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। রিটায়ার করার পর কি হবে আমার?? এসব হারানোর কারণেই তো হার্ট আমার অ্যাটাক করবে।

পরদিন থেকে বাড়তি সুযোগ সুবিধা নেওয়া বাদ দিলাম। সব মসজিদ মাদ্রাসা কমিটি’র সভাপতি/সদস্য পদ বাদ দিলাম। ভিআইপি বা অযাচিত ক্ষমতাদর হওয়ার চেষ্টা বাদ দিলাম। সিরিয়াল ভেঙ্গে ডাক্তার দেখানো বাদ দিলাম। অফিসে আসা যাওয়া ছাড়া সরকারি গাড়ি ব্যবহার বাদ দিলাম। না, এসব করে আমি কোনো মহামানবের কাজ করিনি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে অস্বাভাবিক আচরণ থেকে স্বাভাবিক আচরণে ফিরে আসলাম মাত্র। হয়ত মানুষ হলাম বা মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র।

ফলাফল?

আগে রিটায়ারমেন্টকে ভয় পেতাম। এখন মনে হয়, সময়ের কিছু আগে অবসর নিয়ে নিলে খারাপ হয় না। কেমন যেন নিজেকে ভারমুক্ত মনে হয়। তার কথাগুলো আমার মগজে ছোটোখাটো একটি বিস্ফোরণ ঘটালো।

পরিবর্তনের বিস্ফোরণ।

অতপর: বেশ কিছুদিন পূর্বে নিজ বাড়ীতে যাওয়ার পর আমার অত্যন্ত কাছের লোক বা আপনজন (বড় ভাই) এর অবস্থা অবলোপন করি। বড় ভাই একসময় বিদেশ থাকতেন এবং প্রচুর অর্থ উপার্জন করতেন। টাকার গরমে নিজের কাছের লোক বা অতি আপনজনকেও তেমনটা পাত্তা দিতেন না। নিজের ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী ছাড়া কারু কথা তেমন ভাবতেন না। প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে দু’হাতে টাকা খরচ করতেন। ফলশ্রুতিতে বড় ছেলে-কে কিছুটা মানুষ করতে পারলেও ছোট ছেলে তেমনটি হয়নি। বয়সের কারণে বিদেশ থেকে দেশে চলে এসে জীবনের পরন্ত বিকালে সংসার চালাতে তাকে রাস্তার পাশে একটি ছোট চা, পান, সিগারেট ও সামান্য মুদি মালের দোকান চালাতে হয়। বাড়ীতে গিয়ে একদিন বিকালে দোকানের (বড় ভাইয়ের) এক কোনে বসে আছি। সেই সময় আমাদের গ্রামের কয়েকজন লোক/খরিদদার এসে কেউ চাচা, কেউ ভাই, কেউ মামা বলে চা, পান, সিগারেট এর অর্ডার দেয় এবং অর্ডার অনুযায়ী মালামাল গ্রহণ করতে গিয়ে তাদের দৃষ্টি আমার উপরে পরার সাথে সাথে সকলে একসঙ্গে সালাম দিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করল কেমন আছেন, কখন আসছেন? তাদের দিকে তাকাতেই দেখি তারা আর কেউ নয় এই দোকানদার অল্প সময়ের ব্যবধানে যাদের দিয়ে বাজার সওদা করাতেন, যাদের নৌকায় বা রিক্সায় চড়ে বিভিন্ন আত্নীয় স্বজনদের বাড়ীতে বেড়াতে যেতেন তারাই এই দোকানের সম্মানীত খরিদদার বা ক্রেতা (সম্মানীত বলায় হয়ত আপনার মনে হতে পারে আমি উপহাস করছি, তা কিন্তু নয় সকলে বলে খরিদদার বা ক্রেতা দোকানের লক্ষ্মী তাই)। বিষয়টি তাৎক্ষনিক হজম করতে না পেরে সালাম বা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে দোকান থেকে একটু আড়ালে গিয়ে চোখের দু’ফোটা জল ফেলে নিজেকে প্রশ্ন করলাম, যার টাকায় পরিশ্রমে আমি সামান্যতম হলেও শিক্ষিত বা মানুষ হয়েছি সামান্য ভুলের জন্য বর্তমানে তার সম্মান নাই অথচ আমার সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে কিসের কারণে? সাথে বিবেকের তাড়নায় ও জ্বলছি! কারণ তাদের সাথে আমার এমন আচড়ন করা মোটেও ঠিক হয়নি, তাদের কি দোষ। সেই ঘটনার পর বা সেই দিন থেকে আমি আরো মিতব্যয়ী হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনিচ্ছা সত্বে হলেও বাড়ীতে যাতায়াত কমিয়ে ফেলি। বিশেষ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ীতে যাই না বললেই চলে। তাতে করে আসে পাশের লোকজন এমনকি আমার নিজ গ্রামের লোকজন বা অনতি দূরের আত্নীয়-স্বজনও আমাকে কিপ্টা বলে, আসলে আমি কিন্তু কিপ্টা নই প্রয়োজনীয় ব্যয় কিন্তু পূর্বের মতই করি পাশাপাশি ভাইয়ের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি মাত্র। অর্থাৎ আমার জীবনে চারিত্রিক ও মানবিক পরিবর্তনের বিস্ফোরণ ঘটাতে চাচ্ছি। যাতে করে আমার এই অনুভূতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজের অন্যান্য লোকজনও ভবিষ্যতের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বি: দ্র: নিজের মনের আবেগ প্রকাশ মাত্র। পারিপার্শিক পরিবেশ থেকে কিছু তথ্য নিয়ে এই লেখাটি লেখা মাত্র । কাকতালিয়ভাবে যদি কারো জীবনের ঘটে যাওয়া গল্পের সাথে কোন কিছু মিলে যায় তবে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে গ্রহণ করবেন আশা করি। ভাষা বা বানান শুদ্ধিতে আমি তেমন জ্ঞানী নই তাই ব্যাকরণ বা বানানে ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক আশা করি পাঠক নিজ গুনে ক্ষমা করে আরো লেখার জন্য উৎসাহ প্রদানসহ লেখাটি শেয়ার করে দিবেন। ধন্যবাদ সময় নষ্ট করে নির্থক লেখাটি পড়ার জন্য।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।