নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) অর্জন করেছে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬ এ স্থান করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এতে নোবিপ্রবি বাংলাদেশের মধ্যে ১২তম এবং বিশ্ব তালিকায় ১২০১ থেকে ১৫০০ অবস্থানের মধ্যে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) টিএইচই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করে। বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সাইটেশনসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে এই র্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয়।
বিশ্বমানের এই তালিকায় নাম উঠে আসায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে আনন্দের জোয়ার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সকলেই একে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, নোবিপ্রবির এ অর্জনের পেছনে রয়েছে সদ্য গঠিত “নোবিপ্রবি র্যাঙ্কিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি সেল” এর নিবিড় প্রচেষ্টা। গত বছরের জুলাই মাসে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরই আন্তর্জাতিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এই সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মাত্র এক বছরেরও কম সময়ে এর দৃশ্যমান সাফল্য মিলেছে।
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, “নোবিপ্রবি তুলনামূলকভাবে নতুন প্রতিষ্ঠান হলেও গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা ইতিমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছি। বর্তমানে বৈশ্বিক গবেষণা সূচকে আমাদের অবস্থান ৭২২তম, যা গর্ব করার মতো সাফল্য।” তিনি আরও জানান, এই র্যাঙ্কিংয়ের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, স্কলারশিপ ও ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ পাবেন।
তবে শিক্ষার্থীদের মতে, র্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহেদুল হক বলেন, “র্যাঙ্কিং ভালো খবর হলেও বাস্তব উন্নয়ন তখনই হবে, যখন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
নোবিপ্রবি র্যাঙ্কিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হোসাইন বলেন, “আমরা খুব সীমিত সম্পদ নিয়ে কাজ করেছি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছে, আমরা নিজেদের লোকবল দিয়েই তথ্য সংগ্রহ ও প্রস্তুত করেছি। এই অর্জন আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।”
সেলের পরিচালক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক বলেন, “এটি কেবল শুরু। আমাদের লক্ষ্য নোবিপ্রবিকে দেশের শীর্ষ পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এবং ভবিষ্যতে বিশ্বের সেরা ১০০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দেখা।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “এই অর্জন পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের। সবার সহযোগিতা ও নিষ্ঠা থাকলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো। কিছু ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি সেগুলোয় উন্নতির জন্য ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করছি।”
টাইমস হায়ার এডুকেশনের এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের মোট ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ২২টি সরাসরি তালিকাভুক্ত এবং ৬টি রিপোর্টার ক্যাটাগরিতে রয়েছে। শিক্ষার মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, গবেষণার গুণগত মান, সাইটেশন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এসব সূচকের ভিত্তিতেই প্রকাশ করা হয়েছে এই তালিকা।


