নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসজুড়ে আজ ছিল এক অন্যরকম আবহ। শহীদ আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজন, দোয়া আর আলোচনায় মুখর ছিল দিনটি। ভিন্ন ভিন্ন ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিগুলো এক সুতোয় গেঁথে দেয় প্রতিরোধ, দেশপ্রেম আর ন্যায়ের পথের শপথ।
দিনটি উপলক্ষে সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি চ্যাপ্টার বাদ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। তারা শহীদ আবরারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আধিপত্যবিরোধী চেতনা ধরে রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নোবিপ্রবি শাখা ‘শহীদ আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ শাহাদাতবার্ষিকী’ উপলক্ষে আয়োজন করে আধিপত্যবাদ বিরোধী আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
সভায় সংগঠনের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ ছিলেন দেশপ্রেমিক এক তরুণ, যিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তার শাহাদাত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, এখনো এই ভূখণ্ডে আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের চিন্তা ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করতে চায়। শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে, জানতে হবে ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি ও তার প্রভাব সম্পর্কে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার। আমরা আবরারের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। তার দেশপ্রেম থেকেই আমাদের প্রেরণা নিতে হবে।
আলোচনা শেষে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশে বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
ছাত্রদল নেতারা জানান, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নির্দেশে আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে; তারই ধারাবাহিকতায় নোবিপ্রবিতেও এই আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিল শেষে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হাসিবুল ইসলাম হাসিব বলেন, আবরার ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় হত্যার শিকার হন। তার সাহস আমাদের শেখায় সত্য বললে ভয় নয়, গর্ব অনুভব করতে হয়।
সভাপতি পদপ্রার্থী আল জকি হোসেন যোগ করেন, শহীদ আবরার সত্য বলার প্রতীক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণদের কণ্ঠস্বর। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে সত্য বলা মানে প্রাণ হারানোর ভয়।
তিনি আরও বলেন, আবরারের রক্ত আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। ন্যায়বিচার ছাড়া গণতন্ত্র টিকে না। শিক্ষাঙ্গন হতে হবে মতপ্রকাশের মুক্ত ক্ষেত্র, নির্যাতনের নয়। শহীদ আবরার আজও বেঁচে আছেন প্রতিটি ন্যায়প্রত্যাশী তরুণের হৃদয়ে।
বিভিন্ন সংগঠনের এসব আয়োজনে আবরার ফাহাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তার আদর্শ ও সাহসিকতার অনুপ্রেরণা, যে অনুপ্রেরণা তরুণদের মনে নতুন করে জাগিয়ে তোলে প্রতিবাদের শপথ।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com