নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘৩য় নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৪’ এর সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী আজ শনিবার (০১ জুন ২০২৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ শেষদিনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এম.পি। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ দিদার-উল-আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র মো. সহিদ উল্ল্যাহ খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এম. পি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেসকল বিষয়ে আমরা পাঠগ্রহণ করছি সে সকল বিষয়ে শিক্ষকতা ব্যতিত সরাসরি কাজে লাগানের সুযোগ কম। তিনি আরও বলেন,বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানকে সরাসরি কাজে লাগানোর অন্যতম উপায় হলো বিতর্কের মতো সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে যুক্ত রাখা। তিনি তার বক্তব্যে যোগাযোগ সক্ষমতা উপর জোড় দিয়ে বলেন, ভাষা দক্ষতার পার্থক্যের কারণে উন্নত দেশের পেশাজীবীরা আমাদের থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিতর্কের মাধ্যমে যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়, ভাষার চর্চার জ্ঞান আরো সমৃদ্ধ হয়। আর আমরা যে বিষয়েরই শিক্ষার্থী হই না কেন, আমরা যেন নিজেদেরকে বাংলা এবং ইংরেজী উভয় ভাষাতেই দক্ষ করে গড়ে তুলি। সকলকে ধন্যবাদ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ দিদার-উল-আলম বলেন, নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার আজ সমাপনী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত দক্ষ ও নিবেদিত বিতার্কিক দল আছে যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নোবিপ্রবি বিতর্কে সফলতার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের দল জাতীয় পর্যায়ে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এছাড়াও তিনি বলেন, সাংগঠনিক দক্ষতার বিবেচনায় নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংগঠনের তুলনায় অন্যতম। পরিশেষে আয়োজকদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এমন ইভেন্ট আয়োজন করার জন্য, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি বীজ বপন হলো। আশা করি আগামী বছরেও নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে। কালক্রমে নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি একদিন মহীরূহ হয়ে উঠবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আয়োজকদের জানাই ধন্যবাদ , জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, মগজে দূর করি মননের কলঙ্ক- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত আজকের এই অনুষ্ঠানে দুটো দলের মধেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।এরমধ্যে যারা বিজয়ী হয়েছো তাদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা এসেছো তাদেরকে ও ধন্যবাদ এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বিশেষ অতিথি নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র মো. সহিদ উল্ল্যাহ খান বলেন, আজকের এই আয়োজনের জন্য নোয়াখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন শিক্ষানুরাগী। আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি এটা জেনে যে, নোবিপ্রবি অনেক আগে থেকেই এ ধরণের বির্তক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। আগামীতে এ ধরণের প্রোগ্রামে নোয়াখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। সকলকে ধন্যবাদ জানাই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তুর্জয় চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এসময় অন্যান্যের মাঝে নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার, প্রক্টর,কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটরগণ,বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকগণ, নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
‘মগজে দূর করি মননের কলঙ্ক’ স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬ জন বিতার্কিক অংশগ্রহণ করে।দুই দিনের অনুষ্ঠানে, প্রথম দিনে চারটি পৃথক রাউন্ডে দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আজ প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে চূড়ান্ত বিতর্কে বিজয়ী হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল ও রানার্স আপ হয় আহছান উল্ল্যাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত বিতার্কিক দল। অনুষ্ঠানে চুড়ান্ত প্রতিযোগী উভয় দল ও সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়।


