রমজান মাসের শেষে ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দে মেতে উঠলেন জার্মানিতে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিরা। গতকাল নুরেনবার্গসহ জার্মানির বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা একত্রিত হয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দিনভর চলেছে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা এবং বাঙালি সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উদযাপন।
ঈদের দিন সকালে বার্লিন, হামবুর্গ, মিউনিখসহ জার্মানির বিভিন্ন শহরে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজের জন্য স্থানীয় মসজিদগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ঈদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের আয়োজন। নুরেনবার্গে আয়োজিত এক মিলনমেলায় ছিল সুস্বাদু সেমাই, বিরিয়ানি, পায়েস, জিলাপি, রোস্ট ও নানা রকমের মিষ্টান্ন। পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুবান্ধবরা একসাথে বসে খাবার উপভোগ করেন, যা বিদেশের মাটিতে বাঙালিয়ানার উজ্জ্বল প্রকাশ।
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝে ঈদ যেন এক স্বস্তির বাতাস হয়ে আসে। ঈদের দিনটিতে প্রবাসী বাঙালিরা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে দেখা করেন, একে অপরকে উপহার দেন এবং দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল নতুন জামা-কাপড়, খেলাধুলার আয়োজন ও উপহারের ব্যবস্থা।
ঈদ উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা, যেখানে প্রবাসী বাঙালিরা একত্রিত হয়ে গান, কবিতা আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। এই মিলনমেলায় নতুনদের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়, যা প্রবাসের জীবনে এক ধরনের আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি করে।
ঈদ শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবও। জার্মানিতে বসবাসরত বাঙালিরা এই উৎসবকে ঘিরে যে আন্তরিকতা ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি করেন, তা প্রমাণ করে যে তারা যেখানেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে চলেছেন।
নুরেনবার্গের এই ঈদ উৎসব প্রমাণ করে, দেশের মাটি থেকে দূরে থাকলেও প্রবাসী বাঙালিরা তাদের শেকড় ভুলে যাননি। ভাষা, খাবার, সঙ্গীত, রীতি-নীতি সবকিছু মিলিয়ে ঈদ হয়ে ওঠে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং প্রবাসে একে অপরের পাশে থাকার, আনন্দ ভাগাভাগি করার এবং বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করার এক অনন্য উপলক্ষ।
সংবাদ লাইভ/বিশ্ব


