সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সাভারের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ (নিটার) ক্যাম্পাসের ভবনগুলোতে কাঠামোগত ঝুঁকি আছে কিনা তা যাচাই করতে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ নিটার প্রশাসনের স্ব-উদ্যোগে এসবি কনসালট্যান্ট লিমিটেড পর্যবেক্ষণ করতে আসে তিন সদস্যের একটি দল। এতে প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, হোস্টেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরীক্ষা করা হয়।
২৬ নভেম্বর জমা দেওয়া পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনতলা ছাত্র হোস্টেলটি ইটের গাঁথুনির ওপর নির্মিত হওয়ায় দীর্ঘ ব্যবহারে এর রডগুলো উদ্ভাসিত হয়ে গেছে এবং মরিচা ধরেছে। ফলে ভবনটি আর বসবাসের জন্য নিরাপদ নয়। এ অবস্থায় গভর্নিং বডি ৩০ নভেম্বর জরুরি সভা করে হোস্টেলটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের বিকল্প আবাসনে যেতে নির্দেশ দেয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান বিবেচনা। তাই ক্যাম্পাসের কাছাকাছি ধনিয়া এলাকায় ১৪ রুম বিশিষ্ট একটি টিন-শেড ভবন অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ঠিক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত নতুন ছাত্র হলের নির্মাণকাজ এই মাসের শেষেই শুরু হবে এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
তবে হলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ধনিয়া এলাকায় যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের বাইরে চলে গেলে ক্লাস, ল্যাব, খেলাধুলা, ক্লাব কার্যক্রমগুলো ব্যাহত হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা, যাতায়াত ও আশেপাশের পরিবেশের বিষয়েও আশঙ্কা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা প্রস্তাব করেছেন—ক্যাম্পাসেই টিচার্স কোয়ার্টারে কিংবা অভ্যন্তরীন কোনো স্থানে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে দেওয়া হোক। পাশাপাশি তারা বলেছেন, নতুন হলের নিচতলার কাজ দ্রুত শেষ করে অতি অল্প সময়ে সেখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আর শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে এই মতপার্থক্যের মাঝেও সংশ্লিষ্টদের আশা, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com