দুর্নীতির অভিযোগে বিপর্য বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অধীনে পরিচালিত নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, কোনো আবাসিক সুবিধা, আধুনিক ল্যাব, কিংবা পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ না করে নামমাত্র গবেষণাভিত্তিক বিএসসি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। শুরু থেকেই ‘ক্রেডিট আওয়ার ফি’-এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হলেও শিক্ষার মান উন্নয়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বস্ত্র অধিদপ্তরের অধীনে থাকা অন্যান্য টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তুলনায় নরসিংদীর এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী সুযোগ-সুবিধার অভাবে চরম অবহেলার শিকার। ফলে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
গত ১৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি, অবেদনপত্র এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু কোনো ফলপ্রসূ প্রতিকার না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন সরেজমিনে এসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বস্ত্র অধিদপ্তরের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনের ভেতরে ফ্যাসিস্ট শক্তি এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তারা জানাচ্ছেন, যতদিন না পর্যন্ত তাদের দাবি পূরণ হবে, ততদিন প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে এবং কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, অবিলম্বে কলেজটি বস্ত্র অধিদপ্তরের আওতায় এনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় দেশের ভবিষ্যৎ টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com