রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করতে চায় না। দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। যদি সরকার নতুন সংবিধান বা জুলাই সনদের বিষয় নিয়ে অগ্রগতি না করে এবং বিদ্যমান সংবিধানই বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করে, তাহলে সেই নির্বাচনে এনসিপির অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় থাকবে।”
আখতার হোসেন আরও বলেন, “বাংলাদেশে যে নির্বাচন হবে, সেটি দেশের মানুষের কাছে নতুন শাসনতান্ত্রিক কাঠামো এনে দিতে হবে। যদি নির্বাচন এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করে, তাহলে সেখানে অংশগ্রহণ করার কোনো মানে থাকে না।”
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ফেব্রুয়ারি বা তার আগেও হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনের ধরন এবং কাঠামো জাতির কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমি যদি বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে অংশগ্রহণ করি, তাহলে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে যায়। এ কারণে আমাদের দাবি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন জুলাই সনদের ভিত্তিতে আয়োজন করতে হবে। নতুন সংবিধানের বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যদি নির্বাচন হয়, তখন এনসিপি যে কোনো সময় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।”
এনসিপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো শুধু সংসদ নির্বাচন করানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। সংস্কার প্রস্তাবনা পরবর্তী সংসদের হাতে ছেড়ে দিলে তা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা অনিশ্চিত। এই কারণেই নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি এনসিপির।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন ও যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীনসহ অন্যান্য নেতারা।


