কক্সবাজারের রামু থানায় অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (BORI) মহাপরিচালক ড. তৌহিদা রশিদকে অবশেষে দুর্নীতির অভিযোগে অপসারণ করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সরিয়ে দিয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমডোর মো: মিনারুল হককে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
BORI-তে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে ড. তৌহিদা রশিদকে চুক্তিভিত্তিক মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগের পর থেকেই তিনি নানা ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি টেন্ডার বাণিজ্য, সেমিনার আয়োজন, এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ড. তৌহিদা রশিদ তার ড্রাইভার, নিজ বাসভবনের কাজের মেয়ে এবং আরও কয়েকজনকে আউটসোর্সিংয়ের জনবল হিসেবে দেখিয়ে প্রতি মাসে তাদের নামে বেতন উত্তোলন করতেন। কক্সবাজার অফিসের কেউ তাদের কখনো দেখেননি। এ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা প্রতিবাদ করলেই তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। প্রায়শই বিভিন্ন পত্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর প্রকাশ করে তাদের মানসিকভাবে চাপে রাখা হতো। প্রকাশ্য মিটিংয়ে চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দিতেন তিনি।
গত জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের পর কিছু কর্মকর্তা তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী হয়ে প্রতিবাদ করলে, পরিকল্পিতভাবে ১৮ আগস্ট একটি পত্রিকায় ২ জন নারী কর্মকর্তা এবং সহকারী পরিচালক রনি আব্বাস হাওলাদারের ব্যক্তিগত অফিসিয়াল তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ কাজের সঙ্গে ড. তৌহিদা রশিদসহ তার বিশ্বস্ত কর্মচারীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ আকারে উপস্থাপন করলেও তিনি তদন্তের আশ্বাস দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেননি। বরং, গত ২ অক্টোবর কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেন।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাদের নিয়োগের প্রক্রিয়াটি যথাযথ ছিল। নিয়োগকালে সকল নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
এছাড়াও, এক সায়েন্টিফিক অফিসার অভিযোগ করেন, ড. তৌহিদা রশিদ তার বিরুদ্ধে করা একাধিক অভিযোগ উপেক্ষা করে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু শরীফ মো: মাহবুব-ই-কিবরিয়াকে সুরক্ষা দিয়েছেন। দুর্নীতিগ্রস্থ অফিসারদের তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা নতুন মহাপরিচালকের কাছে সঠিক তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com