বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারের খোঁজ নিতে ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের ১২ শিক্ষকের একটি প্রতিনিধিদল। তবে ব্যস্ততার কারণে তাদের সাথে দেখা করেননি ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
গত শনিবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকরা প্রায় ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করেন। পরে হারুনের দেখা না পেয়ে শিক্ষকরা ফিরে যান।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাতে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে এই সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে যায় ডিবি। এ বিষয়ে আজ দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের দলটি ডিবি কার্যালয়ে হারুন অর রশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে অভ্যর্থনা কক্ষে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের তাঁদের পরিচয় দেন। তবে হারুন অর রশিদ ভেতরে একটি সভায় ব্যস্ত থাকায় দেখা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শিক্ষকেরা ২০ মিনিট ডিবির অভ্যর্থনা কক্ষে অপেক্ষা করে সাড়া না পেয়ে ফটকের সামনে এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, ‘আমরা জেনেছি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রকে হাসপাতাল থেকে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ডিবির হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে তাঁদের এখানে আনা হলো কেন, শুধু এটা জানতেই আমরা এসেছিলাম। তখন এখানকার অফিস প্রধান (হারুন অর রশিদ) ভেতরেই ছিলেন এবং তাঁকে খবরও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা, নিরাপত্তাসহ সব বিষয় নিয়েই উদ্বিগ্ন। এ জন্যই আমরা খোঁজ নিতে এসেছি, শিক্ষার্থীদের কী নিরাপত্তার অভাব হলো? ডিবি শিক্ষার্থীদের তো আমাদের জিম্মায়ও দিতে পারত। কিন্তু তিনি (ডিবি প্রধান) তো আমাদের সাথে দেখাই করলেন না।’
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com