সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ তরুণদের বড় একটি অংশ কৃষিকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী নয়। তারা মনে করে, কৃষিকাজে শ্রম বেশি কিন্তু লাভ কম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই, বাজারদরের ওঠানামা সব মিলিয়ে কৃষকের জীবন সবসময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে। এই বাস্তবতা তারা কাছে থেকে দেখেছে বলেই কৃষি থেকে দূরে থাকতে চায়। একই সঙ্গে এসব সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, কৃষিতে আধুনিক জ্ঞান ও সহায়তার অভাব তরুণদের নিরুৎসাহিত করছে।
কৃষি থেকে তরুণদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পেছনে কারণ একটিমাত্র নয়। প্রথমত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাব বড় একটি বিষয়। কৃষিতে বিনিয়োগের ঝুঁকি অনেক, কিন্তু ক্ষতির সময় পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা দুর্বল। দ্বিতীয়ত, সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নটি গভীরভাবে কাজ করে। সমাজে এখনও কৃষিকাজকে অনেকে পিছিয়ে পড়া পেশা হিসেবে দেখে। শিক্ষিত তরুণের জন্য মাঠে কাজ করা অনেকে অবমূল্যায়ন করে, যা মানসিকভাবে তাদের দূরে সরিয়ে দেয়।
আরেকটি বড় কারণ হলো, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কৃষির দূরত্ব। পাঠ্যবইয়ে কৃষির কথা থাকলেও বাস্তব জীবনে কৃষিকে আধুনিক ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে তুলে ধরা হয় না। তরুণরা দেখে, শহরে চাকরি মানেই স্থির আয়, সামাজিক স্বীকৃতি আর তুলনামূলক আরামদায়ক জীবন। বিপরীতে কৃষিতে দিনরাত পরিশ্রম করেও লাভ অনিশ্চিত। ফলে তারা স্বাভাবিকভাবেই অন্য পথে হাঁটতে চায়।
তরুণদের কৃষিতে ফেরাতে হলে প্রথমেই দরকার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। কৃষিকে কেবল জীবনধারণের উপায় নয়, বরং সম্মানজনক ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে তুলে ধরতে হবে। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, নতুন ফসলের সম্ভাবনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের সুযোগ সম্পর্কে তরুণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে হবে। প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে সহায়তা পেলে অনেক তরুণই কৃষিতে নতুন করে আগ্রহী হতে পারে।
একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। ফসল উৎপাদনের পর যেন তারা দালালনির্ভর না হয়, সে জন্য সরাসরি বাজারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। এতে কৃষিকে আর অনিশ্চিত পেশা বলে মনে হবে না।
শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেও কৃষিকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ, সফল কৃষি উদ্যোগের গল্প তরুণদের সামনে তুলে ধরলে তাদের ধারণা বদলাতে পারে। পরিবার ও সমাজকেও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া তরুণকে সম্মান দেওয়া হয়। কৃষি থেকে তরুণদের দূরে সরে যাওয়া কেবল একটি পেশা বদলের গল্প নয়, ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নও বটে।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com