হাফেজ নাঈম উদ্দীন, চট্টগ্রাম: আল্লাহতালা মানব জাতিকে যেমনিভাবে একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সৃষ্টি করেছেন। তেমনি তাদের সুষ্ঠুভাবে জীবন যাপনের যাবতীয় প্রয়োজনের খোরাকের ব্যবস্থাও করেছেন এক রহস্যপূর্ণ পরিকল্পনা অনুসারে।
এই কথাটির সত্যতা স্বীকার করতো এক মুসলিম নেতা মাহাত্মা গান্ধী তার ভাষায় বলেন: প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণের উপকরণ রয়েছে পৃথিবীতে।
এ জগতে যতগুলো সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে তা সবের প্রকৃত মালিক হলো তিনি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। পৃথিবীতে বিদ্যমান যে কোন বস্তর ওপর মানুষের মালিকানাও আল্লাহর দান । আবার উক্ত সম্পদ গুলো কিভাবে ব্যবহার করতে হবে তা পবিত্র কালামে বর্ণনা করা হয়েছে সবিস্তারে, যদি মানুষ তাদের অর্থনৈতিক জীবনে কোরআনে বর্ণিত মূলনীতিগুলো অনুসরণ করে তাহলে তারা নিজের পার্থিব প্রয়োজন যথাযথভাবে মেটানোর পর তাদের আসল কাজে (অর্থাৎ এবাদত ও আল্লাহকে রাজি খুশি করার প্রচেষ্টাই মনোনিবেশ করতে পারবে)। যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে যদি তারা তা না মানে বা আল্লাহর বেঁধে দেওয়া সীমাকে অতিক্রম করে তাহলে তাদের পরকালের শাস্তি ছাড়াও দুনিয়াতে নিজেদের দোষের কারণে তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে ।
শাস্ত্রীয়ভাবে অনেক অর্থনীতিবিদরা অর্থনীতিকে সম্পদের জ্ঞান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানব জীবনের প্রতিটি বিভাগের সাথে অর্থনীতির বিষয়টা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিবেশ,রাজনীতি ,অর্থনীতি ,এরা একঘাটের তিন চাকার মতো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত আমাদের মতে একটি টেকসই অর্থনীতির জন্য প্রথমে দরকার তা’ টেকসই মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া। অর্থনীতির সকল বিষয়গুলোকে মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করানো হয়েছে এমন হওয়া। অর্থনীতিকে যেন এই জীবনের পুরো অংশ মনে করা না হয় এর জন্য একটা দিকনির্দেশনা থাকা। অর্থনৈতিক ব্যবস্হায় যেন নৈতিকতার পুরো অধ্যায়টি আবশ্যিকভাবে পালন করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
সম্পদ উপার্জনের বৈধ পন্থাগুলোতে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয় । এবং অবৈধ পন্থা গুলো যেন নিষিদ্ধ করা হয়।সম্পদ বন্টনের সম্পূর্ণ নীতিমালা থাকে। সর্বোপরি যে কোন অর্থনৈতিক সমস্যার ও যোগ চাহিদার যথাযথ সমাধান যাতে সন্তোষজনকভাবে বিদ্যমান থাকে ।
এটাই হলো টেকসই অর্থনীতির রূপরেখা ।
আর এই সবগুলো দিক বিবেচনায় রেখে কোন অর্থ ব্যবস্থা চালু করা বা প্রণয়ন করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অর্থনীতি এই জগতে দাবি করতে পেরেছে মহাগ্রন্থ আল কুরআন একাই। সুন্দর ও টেকসই অর্থনীতির রূপরেখাটি আল কোরআনে বর্ণিত অর্থ ব্যবস্থাতেই পাওয়া সম্ভব। আর কোরআনের উক্ত মূল নীতিগুলোর সংক্ষিপ্তরূপ হলো আল কুরআনের ধারক মহানবী (সাঃ)এর সেই নবুয়তী জীবনের প্রয়োগীক মূলনীতিগুলো ।
তিনি শুধু মূলনীতিগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেননি বরং প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন। আর বাকি কাজগুলো যেমন বিভিন্ন যুগে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সমাচার সমস্যা সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি উম্মতের মধ্যে নবীর যোগ্য উত্তরসূরীরা কুরআন সুন্নাহর ইঙ্গিতের উপর ভিত্তি করে তার যুগোপযোগী সমাধান দিয়েছেন। আর এই অর্থব্যবস্থাই হলো ইসলামী অর্থনীতি বা ইসলামী অর্থব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।
সুতরাং আমাদের জন্য কল্যাণকর কোন অর্থব্যবস্থা যদি ধরনীর বুকে বিদ্যমান থাকে তা হলো ইসলামী অর্থনীতি বা আল্লাহ প্রদত্ত অর্থ ব্যবস্থা।


