ads
ঢাকাসোমবার , ৬ মে ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

ছোট গল্প | নিয়তি | এম. আর. সুমন

সাহিত্য বিভাগ
মে ৬, ২০২৪ ১০:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এম. আর. সুমন: জানালার পাশে বই নিয়ে বসে আছি। গল্পে মন যাচ্ছে না। কেমন যেন ঝিমঝাম অবসন্নতায় ঘেরা ক্লান্তিকর মেঘাচ্ছন্ন এক বিকেল। মেঘগুলো উড়েউড়ে দূরে কোথাও সরে যাচ্ছে। আমার আকাশ ফাঁকা হলেও কারো আকাশ মেঘে ঢাকে। মনের কোণে মেঘেদের যে কালো জমাট তা থেকে মুক্তি নেই আমার আমাদের কারোরই। অতি সুখী মানুষটারও দিনের কোনো এক সময় অবসন্নতায়, শূন্যতায় দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে দূরের আকাশপানে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন বহুক্ষণ। সবই আছে তবু কিচ্ছু নেই, কেউ যেন নেই। মেয়ের বিয়ে হয়েছে স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে আছে। তা ভেবে সুখ লাগলেও বাড়িটা যেন ফাঁকা। বুকের মধ্যে মেঘেদের বসবাস। তারা আসুক বুকের ভিতর থেকে মেঘটা সরিয়ে দিয়ে যাক। একটা হাহাকার। একটা দীর্ঘ নিশ্বাস।

ছেলে স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় অবস্থান করছে কত আনন্দের খবর তবু নি:সঙ্গ লাগে আমার কেউ নেই গল্প করার সঙ্গী নেই বাড়িটা যেন নির্জীব। জীবনগুলো সব দূরে নিজেদের জীবনের তাগিদেই দূরে রয়ে যায় শুধু বুকের ভেতর থেকে থাকে একটা দীর্ঘ শূন্যতা।

এই যে মেঘে ঢাকা জীবন, জীবনের কোনো না কোনো সময় সবাই তা অনুভব করে। সব কিছু থেকেও যেন কিচ্ছু নেই। এ যেন শুধু মেঘের সাথেই বসবাস।

আজকের মেঘে ঢাকা আকাশ, হালকা বাতাস গাছেদের পাতা ঝরার মড়মড় শব্দ মনকে জানান দেয়
সবই ঝড়ে যায় স্থায়ী নয় কিছুই, চলে যেতে হবে দূর বহুদূর। শুধুই জীবনের ছুটে চলা।
ছুটে চলাই জীবন।

মাঝে মাঝে মনে হয় দর্শনশাস্ত্রে ডুব দেই। উলটপালট করে দেখি ইবনে খালদুন’র ‘মুকদ্দিমা’। থমাস হবসের লেভিয়াথন।
হবস বলেছিলেন- “leisure is the mother of philosophy”. ঠিক যেন তাই। এবার উঠা যাক, দর্শন ভাব্বো সে অবসর আর কোথায়? জ্ঞান বিতরণই যখন জীবিকার একমাত্র পন্থা বাধ্য হয়েই যেতে হবে টাউনহল ছাত্রের বাসায় টিউশন নামক এক অসংজ্ঞায়িত পেশায়। টিউশনকে জ্ঞান বিতরণ বলাটা ভুল মনে হতে পারে অবৈতনিক পাঠদান হলে ঠিক বলা যেত। তবে আরিফ সাহেব শুধু মলাটবদ্ধ বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, ছাত্রদের নিয়ে ছুটে চলেন হিমালয় থেকে মেঘালয়, জীব থেকে জীবনবোধে, ডুব দেন দর্শনে।

আজকে আবহাওয়াটাই হারিয়ে যাওয়ার। অবশ্য আরিফ সাহেব মাঝে মাঝে স্বেচ্ছায় হারিয়ে যান হুমায়ূন স্যারের হিমু কিংবা মিসির আলী চরিত্রে। তিনি আবিষ্কার করতে চান নতুন কোন চরিত্র যার নাম হবে আরাফ আলী। আরাফ আলী হবেন জ্ঞান বিতরণের পণ্ডিত, দর্শনের ভাঙা চশমা। ভাঙা চশমা দিয়ে তিনি মানুষের জীবনকে দেখবেন। লিখবেন ‘প্রশ্নহীন প্রশ্নোত্তর’ যেখানে মানুষ খোঁজে পাবে জীবনের সাত রঙ।

এখন চারটা বেজে পাঁচ। টিউশনের সময় অতিক্রম হতে চলল। যেতে নাহি ইচ্ছে করে তবু যেতে হয়, মনটা নদীর স্রোতে জলতরঙ্গের মতোই উদ্বেলিত। আবহাওয়াটাই আজ সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে আরিফ সাহেবের।

বরাবরি সাইকেল নিয়ে টিউশনের উদ্দেশ্যে বের হতেন তিনি। আজ বের হয়েছেন সঙ্গীহীন একা। সচারাচর প্যান্ট এর সাথে শার্ট কিংবা টি-শার্ট। আজ পড়েছেন নীল পাঞ্জাবি। জীবনের রঙ নীল। নীলাকাশের নীল নয়। এ নীল বেদনার।
মাথার উপর বিস্তীর্ণ আকাশ ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষে নীল পাঞ্জাবি পড়ে চটি পায়ে হাঁটছেন দার্শনিক আরাফ আলী।

চারপাশে এত মানুষ! চোখের সামনে হাজারটা গল্প ভেসে উঠে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা গল্পে মেতেছে। আমাদের সময় এমন বয়সে আমরা এক্কাদোক্কা খেলতাম। আনমনেই হেসে উঠলেন আরিফ সাহেব। আর আজ? চলছে খেলা, প্রেম প্রেম খেলা!

ময়মনসিংহ টাউনহল মোড় পাঁচ রাস্তার সম্মিলন। হাতের বা-পাশের রাস্তা ধরে আরিফ সাহেবের গন্তব্য টিউশন। আজ একটু রাস্তা ভুলা যাক। দেরি তো ঢের হয়েছে।শুরু থেকেই এক ঘণ্টা দেরি। রাস্তা হারিয়ে পৌঁছাব গন্তব্যে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। দার্শনিকদের মাথায় মাঝে মাঝে গোলযোগ হয়। তাদের কাজকারবার সাধারণের কাছে হয়ে উঠে রহস্যময়।

ইচ্ছা করেই উলটো পথে মানে হাতের ডান পাশের রাস্তায় হাঁটতে শুরু করলেন আরিফ সাহেব। এসব উল্টাপাল্টা কাজ করেই কী সৃষ্টি হবে জনপ্রিয় চরিত্র দার্শনিক আরাফ আলীর?
এখন ঘড়ির কাটায় প্রায় ৭ টা।
কী বিপদ! হাঁটতে হাঁটতে সামনে পড়লো আবার তিন রাস্তার মোড়। এ মোড়টার নাম জানা নেই। আজই প্রথম এখানে আসা। এখন তিনি কোন দিকে যাবেন? আরিফ সাহেবের মাথা বিগড়ে গেছে। নিজেকে নিজেই বলছেন- দূর কেন যে আজ বাসা থেকে বের হলাম। মাথায় কিসের যে ভূত চেপে ধরে। আরাফ আলীর ভূত। দার্শনিক আরাফ আলী।

যা হবার হবে আল্লাহ ভরসা বলে আবার হাতের ডান পাশের রাস্তায় পা বাড়ালেন তিনি। শহরের সবগুলো রাস্তা একটা আরেকটার আগা-মাথা, অল্প জায়গার মধ্যেই ঘুরেফিরে এ গলির মাথা অন্যগলির শেষ।

কিছুদূর যাওয়ার পর চোখে তাঞ্জিম ভিলা নামটা পড়েছিল এমনটা মনে হচ্ছে , তিনি কিছুটা পেছনে ফিরে এসে খেয়াল করলেন হ্যাঁ এটাই তো তার ছাত্র তাঞ্জিমদের বাসা।

আরিফ সাহেব কলিং বেলটাতে ধীরেধীরে দু’টা চাপ দিয়ে পেছন ঘুরে নীলাকাশ পানে তাকালেন। বিকেলের মেঘ এখনো রয়ে গেছে এ আকাশ পানে। কালো সাদা মেঘের ছুটাছুটি চলছে। মেঘেদের লুকোচুরিতে অবগাহন করিতেই, রবিনের বিস্ময়সূচক ডাক-স্যার আপনি! একটা দিন বাদ দিতে পারলেন না। বিকেলে আসেননি দেখে খুব খুশি হয়েছি, আমিও ঘুরতে গেছিলাম বন্ধুদের নিয়ে। ভাবলাম আজ আর আসবেন না।
আরিফ সাহেব হতবিম্ব, মানে?
-স্যার নীল পাঞ্জাবিতে খুব সুন্দর লাগতেছে আপনাকে! আপুকে নিয়ে কী কী করলেন মানে কোথায় কোথায় ঘুরলেন?
:মানে কী! কী বলতে চাচ্ছিস কিছুই বুঝতেছিনা?
-স্যার আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি।
: ১৪ ফেব্রুয়ারি তো বিশ্ব বাঘ দিবস। আমাদের দেশের বাঘের সংখ্যা দিন দিন শূন্যের দিকে যাচ্ছে এর রহস্য কী বলতো?
-দূর কী যে বলেন স্যার, আজ ভালোবাসা দিবস!
: ও তাইতো, ভালোবাসা সে তো চলে গেছে বহুদিন। এখন আর ভালোবাসা মনে পড়ে না, মনে পড়ে দূর আকাশের সঙ্গহীন চাতলপাখির কথা!
-আমারে কিছু বললেন স্যার? কিছু বুঝি নাই?
: বুঝতে হবে না, ভালোবাসা দিবস ঠিক বুঝ গেছো, অংক না পারলে টের পাবা ভালোবাসা কারে কয়?
-স্যার আজ বাদ দিলে হয়না?
: তা হয় কিন্তু জীবনের সাথে অন্যায় হয়ে যাবে, খালাম্মা রাগ করবে। চল দ্রুত দুইটা ম্যাথ করে ফেলি। দ্রুতই টিউশন শেষ করে বের হলেন আরিফ সাহেব। আকাশ ডাকছে। ঘুরঘুর মেঘের শব্দ। কোথাও কোথাও আলোর ঝলকানি চোখে পড়ছে।

এখন রাত প্রায় ১০ টা!
দার্শনিক আরাফ আলী কী আবার হাঁটা শুরু করবেন? রাত ১০ টায় হাঁটা আবার সেটা যদি হয় উল্টো পথে কেমন হবে? নাকি রিক্সা নিবেন? এদিকে আবার ভয় আছে বৃষ্টিতে ভেজার।

এতো রাতে আর বেশি ঝুঁকি নিলেন না আরিফ সাহেব। তবে রিক্সা নয় হেঁটেই যাবেন সিদ্ধান্ত নিলেন। অবশ্য রিক্সাও হাতের কাছে নেই। তার জন্যেও অপেক্ষার প্রহর হতো দীর্ঘ। তার চেয়ে হাঁটায় বরঞ্চ ভালো।

এক সময় রাত ১০ টা মানে সন্ধ্যা! বাড়িতে বাড়িতে টেলিভিশন ছিলো না, হাতের এন্ড্রয়েড ফোন ছিলো না এতো সহজলভ্য। সবাই মিলে বাজারে রাস্তার মোড়ে জমায়েত হয়ে টেলিভিশনে ছায়াছবি (চলচ্চিত্র) দেখে সময় কাটাতো। বিনোদনের একমাত্র ইহাই ছিলো মাধ্যম। এখনো প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

আর আজ ৮ টা মানেই অনেক রাত!দোকানপাট সব বন্ধ। সবাই নিজেদের বাসায় টেলিভিশন, মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় বিনোদনকে হাতে নিয়ে উল্টাপাল্টায়। একটা ছবি দেখার জন্যে ১০ মিনিটের এডভারটাইসমেন্ট অপেক্ষা করে করে কয়েক ঘন্টা পার হয়ে যেত। আর এখন ১০ মিনিট তো অসম্ভব, এক মিনিটেই পরিবর্তন হতে থাকে চ্যানেল থেকে চ্যানেল। একের পর এক পরিবর্তনে রাত কেটে যায় তবু কোনো কিছুই দেখা হয় না। সবই সময়ের পরিবর্তন। যুগ পাল্টে গেছে, মানুষও বদলে গেছে। আগের সেই শ্রদ্ধাবোধ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব, রীতিনীতি অনেক কিছুই নেই। বদলে গেছে মানুষের জীবন প্রবাহও।

রাত যখন ১১ টা বেজে ৩৫ কয়েক ফোটা বৃষ্টি শরীরে পড়ছে, তুমুল একটা বৃষ্টি হবে বুঝা যাচ্ছে। বিকেলের মেঘ এতো রাতে এসে সময়ের পরিক্রমায় বৃষ্টিতে রূপ নিচ্ছে।

ভেজা ভেজা শরীরে হাঁটতে হাঁটতে ভার্সিটির ইয়াসিনের মোড়ে আসতেই আচমকা এক শব্দে আরিফ সাহেবের পা থমকে যায়।
না কোন ছিনতাইকারী নয়। অবশ্য এই জায়গাটাতে চুরি ছিনতাইয়ের খবর প্রায়শই শুনা যায়। ভার্সিটির ইয়াসিনের মোড়ে আছে দুটা কালভার্ট, রেলক্রসের এ পাশ ওপাশ। রাতবিরাতে অনেকের জমায়েত ঘটে এখানে।
এদের কেউ কেউ রাতের পাখি। টাকার বিনিময়ে হয় উভয়পক্ষের আদান-প্রদান। দেহ বনাম টাকা। টাকা বনাম নেশা। আবার উভয়েরই ঘটে এক সাথে মিশ্রণ, বসে রাতের আড্ডা।
এ জায়গাটাতে সাধারণ মানুষের আনাগোনা রাত দশটার পরে থাকে না বললেই চলে। ভয়ে ভয়ে পার হতে হয় জায়গাটুকু। কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ছুরিকাঘাত হওয়ার পর প্রশাসন কর্তৃপক্ষ এখানে একটা লাইট লাগিয়েছে। মেঘ বৃষ্টির রাতে লাইটের আলো নেই, বিদ্যুত বিরতি নিয়েছে হয়তো।

কিসের শব্দ বুঝা যাচ্ছে না। দার্শনিক আরাফ আলীকে এতো ভয় পেলে কী চলে! ধীরপায়ে কাছে গেলেন তিনি, কালভার্টটার কাছে। এক বৃদ্ধার কান্নার গোঙানির শব্দ। শীতে কাঁপন ধরেছে শরীরে। জড়োসড়ো হয়ে পড়ে আছেন বৃদ্ধা। এই ঝড়বৃষ্টির রাতে আপনি এখানে কেন? দার্শনিক আরাফ আলী সাধারণ মানুষ হয়ে গেলেন বুঝি, তিনি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন বৃদ্ধার চোখপানে।
৮০ এর কম হবার কথা নয় বৃদ্ধার বয়স।
আরিফ সাহেবের ভয় উধাও হয়ে গেছে বৃদ্ধার ঠিকানা উদ্ধারের চেষ্টায়। যতটুকু জানা গেল- বৃদ্ধার বাড়ি গৌরীপুর।চোখের সমস্যায় ভোগছেন বহুদিন। বার্ধক্যজনিত আছে বিভিন্ন রোগ। হাঁটা চলার শক্তিটুকু জীবন থেকে চলে গেছেন আরো অনেক দিন আগে। জীবনের একি পরিবর্তন, সময়ের সাথে বয়সের! সেই সাথে নিজেদের নীতিনৈতিকতা বিবেকবোধেরও।

বৃদ্ধার ছেলে চিকিৎসার কথা বলে এখানে রেখে গেছেন বিকেলে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে বৃদ্ধা একা পড়ে আছেন। আরিফ সাহেব তথা আরাফ আলীর মতো দার্শনিকেরও একা একা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ভয় পেতে বাধ্য এখানে।

আরিফ সাহেব দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ছেড়ে বৃদ্ধার ভুলটা ভাঙালো। ঝড়বৃষ্টির রাতে রিক্সা বা ইজিবাইক কোনটায় এখন পাওয়া যাবে না। তবু আল্লাহর নাম নিয়ে আশায় বুক বাঁধা।

বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা
বিপদকে যেন করিতে পারি জয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিলের মোড়, জব্বারের মোড়ের দোকানগুলো খোলা থাকে, খোলা রাখতে হয় ছেলেদের আবদার মিটাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের হল গুলো এর উভয় পাশে থাকায় এখানে চা-সিগারেট আড্ডা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।
আব্দুল জব্বারের মোড়ের মদিনা হোটেলের সাকিব ভাইয়ের ফোন নাম্বারটা ছিলো মোবাইলে সেইভ। আরিফ সাহেবের টিউশন শেষে রাতের খাবার সাড়ার জন্যেই উনার সাথে বলতে হতো মাঝে মাঝে। ‘ভাই দশ মিনিটের মধ্যে আসতাছি আমার খাবার রাইখেন’।

সাকিব ভাইকে ফোন দিয়েই একটা রিক্সা নেওয়ার ব্যবস্থা করলেন আরিফ সাহেব। বৃদ্ধাকে নিয়ে আব্দুল জব্বারের মোড়ে রাতের খাবার সাড়লেন আর জীবনের হিসেব কষতে লাগলেন দার্শনিক আরাফ আলী।

আরিফ সাহেব নিরুপায়। ব্যাচেলর মানুষ থাকেন। থাকেন শেষমোড়ের মেসে। এই বৃদ্ধাকে তিনি কোথায় রাখবেন? দেখবাল করার দায়িত্ব কে নিবে?

সাকিব ভাইয়ের সাথে বিস্তারিত আলাপ সেড়ে, হোটেলের ছেলেদের থাকার জায়গায় বৃদ্ধাকে রাতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিলেন।

এখন রাত ২টা বেজে ৫ মিনিট। মেসে এসে ফোন টা হাতে নিয়ে কোথায় কোথায় বৃদ্ধাশ্রম আছে জানতে চেয়ে পোষ্ট করলেন আরিফ সাহেব? জীবন যখন নিরুপায় বৃদ্ধাশ্রম তখন স্বর্গরাজ্য। বৃদ্ধার তো সঙ্গী থাকা চায়।জীবনের শুরুতে, যৌবনে একাকী কেটে গেলেও শেষ জীবনে সঙ্গী ছাড়া মৃত্যর সমান।

‘মাতৃছায়া’য় জায়গা হল এই বৃদ্ধ মায়ের।

শেষটা হাঁটা সম্ভব হয়নি আরিফ সাহেবের।তাতে আফসোস নেই। বরং কৃতজ্ঞতার নিশ্বাস ছেড়ে তিনি বলতে লাগলেন মাঝে মাঝে পথভুলা মন্দ নয়। আরাফ আলীর দার্শনিকতা হার মেনে নেয় জীবনে। জীবন যেখানে রহস্যময় দার্শনিকতা সেখানে বিলাশীতা মাত্র।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।