মায়ের গর্ভে জন্ম লাভ করেছি আমি/আপনি সকলে। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। তিনি এক স্বর্গীয় বিস্ময়কর প্রতিষ্ঠান। বাংলা/ইংরেজি লেখা পড়া জানুক কিংবা না জানুক তিনিই শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা।আমার মাকে আমরা সব ভাইবোনেরা মিলে স্বাক্ষর জ্ঞানদান করেছি। নির্বাচনের ভোট কিংবা কোন কাজে স্বাক্ষর দিতে পেরে উনার চোখে অন্যরকম আনন্দ খুঁজে পেতাম। আরবি শিক্ষার ছাত্রী হিসেবে উনি ইহকাল ত্যাগ করেন ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর (বুধবার সকাল ১০ টায়)। মার চোখে আমরা ভাইবোনেরা লেন্স লাগিয়ে দেওয়ার পর আরবি আমপারা/ কায়দা পড়তে খুব আনন্দ পেতেন। এখন বারবার মনে হয় আমার দায়িত্ব গুলোতে আমি খুশি নই। তাই প্রিয় পাঠক আপনার দায়িত্ব বাড়িয়ে দেন আপনার মায়ের প্রতি।
আমার “মা” আমার সবচেয়ে বড় মাস্টার। গ্রামের বন্ধুদের সাথে অহেতুক ঘুরাফেরা রোধকল্পে মা পড়ার ঘরে বসে থাকতেন অতন্ত্র প্রহরীর মতো। মনে হতেন, উনি বোধ হয় সকল বিষয়ে পারদর্শী। প্রাতিষ্ঠানিক কোন প্রতিষ্ঠানে মা লেখা পড়া না শিখেও অমাদের ভাই-বোনদের জন্য মা ছিলেন আদর্শ শিক্ষিকা। আমাকে দেখার জন্য ওনার সব কাজ বন্ধ হলেও দুধ দিতে ভুল করতেননা। আবার এই মা জননী শত বাধাঁ বিপত্তি পাড়ি দিয়ে আদুরের নাড়ী ছেঁড়াকে খঁজে বেড়ায় সব সময়-যে কোন বিপদ-মহামারীতে, হাজির হন সবার আগে। একবার “মা” সাঁতার কেটে আমাকে মৌমাছির আক্রমণ হতে (বন্যা কবলিত এলাকা ছিল), আবার পানিতে পড়ে গেলে মা গভির খাল হতে আমাকে উদ্ধার করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিশ্ব মুক্ত সংবাদপত্র দিবসে (৩ মে ২০০২) দুর্বৃত্তদের ছুড়িকাঘাতে ঢাকাতে আহত হই। সুস্থ হয়ে কিছুদিন পর মার কাছে গেলে তিনি ঘটনা শুনেই অজ্ঞান হয়ে পরেন। ভেবে দেখেছেন মার প্রতি আমাদের কি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল??
মা মানেই মহাবিশ্বের গরীয়সী, লালন-পালনকারী বর্ণনাতীত অনন্যা একজন মহীয়সী নারী। তিনি সম্মানের শীর্ষে মহান সিংহাসনে অধিষ্ঠিত। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় ও মমতামাখা শব্দ ‘মা’। মা’ শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে অসীম, চিরন্তন আত্মত্যাগ, এক মমতাময়ী শ্রদ্ধার্ঘ ভালবাসা।
আমার মা আমার সকল শক্তির প্রেরণা। আমার সুখের বাতিঘর। দুনিয়ায় থেকে জান্নাতের দলিল পাওয়ার সোপান। তিনি আমার নিরাপদ আস্থার বিশ্বস্ত ভান্ডার। আমার মা আমার সুখের ঠিকানা। আমার স্বপ্নের বাস্তব সত্বা। মাকে দেখলে আমি শান্তির শীর্ষে অবস্থানের সুখ অনুভব করতাম, করি করিব। সেই মাকে স্বপ্ন দেখার জন্য সব সময় মহান আল্লাহ পাকের কাছে প্রার্থনা করি।
মা হল পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক, যেখানে আমরা আমাদের সব দুঃখ, কষ্ট জমা রাখি এবং বিনিময়ে নেই অকৃত্রিম ভালোবাসা। পৃথিবীটা অনেক কঠিন, সবাই সবাইকে ছেড়ে যায়, সবাই সবাইকে ভুলে যাই, শুধু একজন ছেড়ে যায় না, ভুলেও যায়না- তিনিই হলেন আপনার আমার মা। আপনি আমি যতই অযোগ্য হই না কেন মায়ের চোখে আমরাই যেন শ্রেষ্ঠ সন্তান-সন্ততি।
পবিত্র কোর-আনে ও মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশনা রয়েছে। একটি হাদীসে আমাদের প্রীয় নবী মুহাম্মদ সঃ বলেছেন, মাতার পদতলে সন্তানের বেহেশত। তাই অনুকম্পায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাভরে বিনয়াবনত থাকতে হবে। ওহ!আহ! উচ্চস্বরে কথা বলা যাবেনা (কুরান-১৭:২৪)।
মাকে কোনভাবেই জীবন থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। কোরআন এবং বিজ্ঞান তা প্রমাণ করেছেন। মমমতাময়ী মা আপনার/আমার অস্তিত্ব জুড়ে জীবনোপায় জীবনোচ্ছ্বাসের জীনম (Genome) কোডের ORF code (Open reading frame, যা ডিএনএ-এর অন্যত একটি অংশ)। জৈব সংরক্ষিত অঞ্চলে (Conserved region) তাঁর সাথে অসাধারন মিল। তাঁর জীবনবাহী অণু (coding) বহন করে চলছি, চলবো আমি/ আপনি আমরণ। পুরোটাই mRNA (Messenger RNA), বায়োলজিক্যাল জৈব প্রতিলিপি (Transcription) কিংবা অনুবাদ (Translation) সব প্রক্রীয়াতেই মিলের সাদৃশ্য অসাধারণ। তাঁর কোন দায়িত্বই অবেহেলিত নয়; এটি যেন সৃষ্টিকর্তার এক অপরূপ গুণী প্রদীপের আলোকিত কীর্তন।
পরম করুনাময়ের জাছে প্রার্থনা, " হে আল্লাহ তুমি বাবা-মায়ের সেবার্থে আমাদের দায়িত্বশীল বানাও, যাঁরা বেঁচে আছেন নেক হায়াত বৃদ্ধি করে দাও। আর আমার মায়ের মতো যাঁরা কবর অতীতে হয়েছেন, আপনার মেহমান হিসেবে কবুল করুন।
“রাব্বির হাম-হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি ছাগিরা।”- হে আল্লাহ!! আমার বাবা-মা সহ সকল পিতামাতাকে আপনি মাফ করে দিন এবং দুনিয়া-আখেরাতে সম্মানিত করুন।
সংবাদ লাইভ/মা
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com