গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে গুম, নিখোঁজ ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এমনই এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন মিনার হোসেন, যিনি ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। কোটাবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ডিবির নজরে আসেন এবং পরে গুম হন।
কোটাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ: মিনার হোসেনের গুম হওয়ার পেছনের একটি বড় কারণ ছিল তার কোটাবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ। তিনি জানান, ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কারণে কোটাবিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় ছাত্রদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন।
গুমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: গত ২৭ জুলাই রাতে মিনার হোসেনকে ঢাকার শ্যামলীর ভাড়া বাসা থেকে ডিবি সদস্যরা ধরে নিয়ে যায়। তারা কোনো প্রকার পরিচয় না দিয়েই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। মিনার বলেন, “তারা আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং জোর করে তুলে নিয়ে যায়।” তিনি তখনো বুঝতে পারছিলেন না যে তার জীবন বিপন্ন হতে চলেছে।
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন: গুমের পরপরই তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে গিয়ে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয়। মিনার জানান, “প্রায় ৩০ মিনিট ধরে একটানা মারধর করা হয়, এবং আমাকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়।” মানসিকভাবে ভীত করার জন্য তাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যা তাকে চরম মানসিক চাপে ফেলে দেয়।
পরিবারের দুশ্চিন্তা ও মুক্তি: মিনারের গুমের খবর তার পরিবারকে সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত করে দেয়। তারা জানত না তিনি জীবিত আছেন কিনা। অবশেষে ৪ আগস্ট, মিনার জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পরও শারীরিকভাবে তিনি দুর্বল ছিলেন, কিন্তু মানসিকভাবে তিনি লড়াই চালিয়ে যান।
গুমের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি: মিনার হোসেনের মতে, তার এই অভিজ্ঞতা তাকে আমাদের দেশে চলমান নিপীড়ন ও অন্যায়ের চিত্রটি স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, “গুমের অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি যে, আমাদের দেশে এখনো ন্যায়বিচারের অভাব রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি একসাথে দাঁড়াই, তাহলে এই ধরনের অন্যায় বন্ধ করা সম্ভব।”
সংবাদ লাইভ/ছাত্র আন্দোলন/মিনার


