রং তুলি নিয়ে আঁকা আঁকি তাঁর মনের জানালায় উঁকি দিত ছোট বেলা থেকেই। এরই রেশ ধরে বাবা সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় রেখে দেন আর্টের জন্য গৃহশিক্ষিকা যার কাছে তিনি ৫০০০ টাকার বিনিময়ে এক মাস আর্ট শেখেন। তাঁর পর থেকে তিনি ডিজাইন কে নিজের প্রধান শখ হিসেবে বেছে নেন।
বলছিলাম পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বাঁধন সাহা রাণীর কথা। বাঁধন সাহা রাণী পড়াশোনার পাশাপাশি ডিজাইন করতে ভালোবাসেন।তিনি নিজের রেজাল্ট যেমন ধরে রেখেছেন তেমনি ছুটে চলেছেন শখের পিছনে।
শুরুটা হয়েছিল ২০২০ সালের করোনাকালীন সেপ্টেম্বর মাস থেকে। সারাদিন রাত বাসায় অলস দিন পার করতেন কিন্তু একটা শিল্পী মন কখনো থেমে থাকে না। তিনি প্রথমে ফেইসবুকে Color’s Story নামে পেজ খোলেন। নিজের জমানো ৩২৪ টাকা দিয়ে কিছু কাঠের বেজ কিনে ডিজাইন করে গহনা বানিয়ে ফেইসবুক পেজে পোষ্ট করতে থাকেন এবং বিক্রি করতে থাকেন। সেই তাঁর পেজের পথ চলা। কাঠের বেজ কিনে গহনা, মাটির তৈরি জিনিসপত্রে ডিজাইন করা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তিনি হ্যান্ডপেইন্ট শাড়ি, পাঞ্জাবীর কাজ শুরু করেন, তাঁর এই ডিজাইনের প্রতিও ক্রেতাদের বেশ সাড়া পেতে থাকেন। তারপর শুরু করেন শীতের জন্য ব্লক বসানো উলের চাদর যা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথম দিকে তাঁর ক্রেতা হিসেবে ছিল আত্নীয় স্বজন, ক্যাম্পাসের সিনিয়র, ব্যাচমেট জুনিয়র। তিনি বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপ এবং ই-কমার্স পেজে নিজের পন্য গুলো পোষ্ট করতেন সেখান থেকে তার ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে।
বাঁধন সাহা রাণী একজন দক্ষ এবং সফল ডিজাইনার হয়ে উঠার পিছনে ছিলেন তাঁর পরিবার, তাঁর মা-বাবা এবং বড় দুই বোন সবসময় নতুন নতুন আর্টের জন্য উৎসাহিত করতেন। তাঁর ছোট বোন বিভিন্ন সময় সহকারী হিসেবে সাহায্য করেছেন। তাঁর এই সফলতার পিছনে তিনি আরেকজন ব্যাক্তির কথা তিনি বিশেষ ভাবে বলেছেন তিনি হচ্ছেন তাঁর ক্যাম্পাসের ১০ম ব্যাচের বিথী আপু। ফেইসবুকের বিভিন্ন বিষয়ে এবং কিভাবে কি করলে সফল হওয়া যাবে এই বিষয়ে অবগত করেছেন বিথী আপু।
ছোট বেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন আর্টের প্রতি ভালোবাসা থেকেই। বর্তমান ডিজাইনার হয়ে উঠাটাও আর্ট আর নতুন নতুন ডিজাইন সৃষ্টির আবেগ ও ভালোবাসা থেকেই। শুরুর দিকে প্রায় ১৩০-১৪০ পিচ হান্ড পেইন্ট পাঞ্জাবি বিক্রি করেছেন এবং বহু সংখ্যক হ্যান্ডপেইন্ট শাড়ি বিক্রি করেছেন। বর্তমান তাঁর ব্লক বসানো উলের চাদরের প্রতি কাস্টমারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি এর মাধ্যমে বেশ লাভবান হয়েছেন। তিনি বলেন তাঁর পেজ থেকে বিক্রয়কৃত পন্যের প্রথম লাভের অংশ দিয়ে মাকে স্মার্ট ফোন উপহার দিয়েছিলেন।তার ইচ্ছে ছিল তার প্রথম ইনকামের টাকা দিয়ে মাকে কিছু একটা গিফট করবেন।
তিনি বর্তমান পড়াশোনা এবং নিজের ডিজাইন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করবেন এবং নতুন নতুন ডিজাইন নিয়ে কাজ করবেন। তাঁর স্বপ্ন নিজের ফেইসবুক পেজ Color’s Story কে এক সময় একটা আউটলেটের রূপ দিতে চান। তাঁর প্রত্যেকটি পন্য হবে ইউনিক এবং মানসম্মত। তাঁর ইচ্ছা নিজের ডিজাইন পরিচিতি পাক দেশ এবং বিদেশে। পাশাপাশি নিজেকে একজন সফল ও দক্ষ ডিজাইনার হিসেবে গড়ে তুলতে চান।


