কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু: বাংলাদেশের কৃষির কথা আসলেই কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি গবেষণার চলে আসে। কারণ উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সেগুলোর সফল প্রয়োগের কারণেই কৃষিতে অবারিত সাফল্য এসেছে। কৃষকের কাজকে সহজ করতে কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষি-গবেষকদের ভূমিকা অনেক। আর এই কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন ও নতুন জাত তৈরিতে যেসব বিজ্ঞানী অবদান রেখেছেন, তাঁদের অধিকাংশই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) স্নাতক। আর এ কারণে বাকৃবিকে বলা হয় কৃষিবিদ তৈরি ও কৃষি গবেষণার আঁতুড়ঘর।
কৃষিতে উচ্চশিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণার লক্ষ্যে ৬২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় বাকৃবি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সাফল্যের সাথে ৪ হাজারের অধিক গবেষণা প্রকল্প সমাপ্ত করেছে। বর্তমানে ৬ শত টির অধিক গবেষণা প্রকল্প চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ টি অনুষদের গবেষণা বিষয়ক ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এ পর্বে থাকছে ভেটেরিনারি অনুষদ।
গবেষণায় ভেটেরিনারি অনুষদ: প্রাণির ভিসারেল অঙ্গের প্লাস্টিনেশন, মোরগ-মুরগির রাণীক্ষেত রোগ ও ফাউল পক্সের প্রতিষেধক টিকা উৎপাদন, হাঁসের প্লেগ ভ্যাকসিন ও হাঁসমুরগির ফাউল কলেরার ভ্যাকসিন তৈরি, রাণীক্ষেত রোগ সহজেই সনাক্তকরণের মলিকুলার পদ্ধতির উদ্ভাবন, মুরগীর সালমোনোসিস রোগ সনাক্তকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ড় কৃষি উন্নয়নে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হাঁস-মুরগীর টিকা উৎপাদন, সালমোনেলা ভাই ভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন, বিসিআরডিভি ভ্যাকসিন, আরডিভি ভ্যাকসিন উদ্ভাবন, মুরগী ও গবাদীপশুর ক্যাম্পাইলোব্যাকটার সনাক্তকরণের প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পিপিআর রোগ সনাক্তকরণে পদ্ধতি, বার্ড ফ্লু ডায়াগনোসিস করার মলিকুলার পদ্ধতি, ব্রুসেলেসিস যক্ষ্মা, এলএসডি র্যাবিস এবং ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব, রিষ্ক ফ্যাক্টর ও অঞ্চল ভিত্তিক রোগসমূহের বিস্তার নির্ণয়। ব্রুসেলেসিস সনাক্তকরণের জন্য রোজ বেঙ্গল টেস্ট, সেরাম ও গ্লুটিনেশন টেস্ট ও EISA-এর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং ব্রুসেলেসিস রোগের বিরুদ্ধে ভেকসিন উদ্ভাবন। গাভীর গর্ভে একাধীক ভ্রুণ উৎপাদন এবং সংরক্ষণ করে একাধিক গাভীর গর্ভে প্রতিস্থাপনে সফলতা লাভ, ছাগল ও মহিষের কৃত্রিম প্রজনন, কৃত্রিম প্রজননে ব্যবহৃত ষাঁড়ের আগাম ফার্টিলিটি নির্ণয়, হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে গরু ও মহিষের গর্ভ নির্ণয়, গাভীর উলান প্রদাহ রোগ নির্ণয় কীট উদ্ভাবন ও প্রতিরোধ কৌশল, ভেড়ার কৃত্রিম প্রজননে হিমায়িত ভ্রূণ সংরক্ষণ এবং স্থানান্তরের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব, লিঙ্গভিত্তিক ষাড়ের শুক্রাণু আলাদা করে গাভীতে কৃত্রিম প্রজনন করে নির্দিষ্ট লিঙ্গের বাছুর উৎপাদনে সফলতা লাভ, কলিজা ও গোল কৃমির কৃমিনাশক প্রতিরোধী জিন ও সনাক্তকরণ প্রভৃতি।
গবেষণার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ শিক্ষা ও গবেষণা। শিক্ষার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই গবেষণাগুলো হয়ে থাকে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সেই কাজটিই করে যাচ্ছে। আমাদের দেশটি কৃষিপ্রধান, আর এ কৃষিকে আরো এগিয়ে নিতে হলে কৃষি গবেষণার বিকল্প নেই। কৃষি গবেষণা এবং সেগুলোর প্রয়োগ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি সারাবিশ্বের মধ্যে প্রথম হবে সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
সংবাদ লাইভ/বাকৃবি


