দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়ানো তথা কৃৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃৃষি গবেষকরা। নিত্য নতুন গবেষণার মাধ্যমে গবেষকগণ উদ্ভাবন করছেন কৃষির নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি। আর এ গবেষণা ও প্রযুক্তিগুলো সারাবিশ্বে জানানো ও কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে থাকেন কৃষি সাংবাদিকরা।
আর এ কারণে কৃষি সাংবাদিকদের সম্মানিত করতে প্রথমবারের বিশেষ পুরস্কার প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)। কৃষি প্রযুক্তি প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় এবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস) কৃষি সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২৪ পেয়েছেন কৃৃষিবিদ আবুল বাশার মিরাজ। কৃৃষি ও কৃৃষি গবেষণার খবর সারাবিশ্বে ও কৃৃষকের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রথমবারের মত প্রদানকৃত এই পুরষ্কার অর্জন করলেন তিনি। প্রায় অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে লেখনির মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কেন্দ্রে পুরস্কার বিতরণী ও বার্ষিক কর্মশালার প্রধান অতিথি সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সী. জাউসীন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজা বেগম।
বাংলাদেশ কৃৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ থেকে স্নাতক এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন কৃষিবিদ আবুল বাশার মিরাজ। কৃৃষির উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি লেখনীর মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে সূর্যপ্রতিম এই মানুষটি ইতোমধ্যেই বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি (বাকৃবিসাস) কার্যনির্বাহী কমিটি-২০২১ এর সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বাকৃবিসাসের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে অর্জন করেছেন বাকৃবিসাসের সেরা সাংবাদিকের সম্মাননা। এছাড়াও ২০১৯ সালে বাকৃবিসাসের সেরা ফিচার লেখক হবার সম্মাননাও রয়েছে মিরাজের ঝুলিতে।
কৃষির খবর ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, কৃষিপ্রেমী আবুল বাশার মিরাজ করোনাকালে তাঁর বন্ধুদের সাথে নিয়ে বগুড়া জেলার ১২ টি উপজেলার ২১ টি স্থানে বৃক্ষরোপণ নিয়ে করেছেন জনসচেতনতা। রোপণ করেছেন প্রায় ২১০০ এর বেশি চারাগাছ। প্রশংসনীয় এই সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য যমুনা টেলিভেশন তাকে ফ্রন্টলাইনার হিসাবেও সম্মানিত করেছে। এছাড়াও বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রেষ্ঠ সংগঠকের পুরষ্কারসহ নানা পুরস্কার ও সম্মানতা অর্জন করেছেন তিনি।
বর্তমানে আবুল বাশার মিরাজ কৃৃষি সাংবাদিকতা করার পাশাপাশি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে 'হেলথিলিভিং বিডি', 'হেল্প দ্যা ফিউচার', 'প্লান্ট ইজি' কর্তৃক আয়োজিত 'মিশন গ্রিন বাংলাদেশ' নামের একটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবেও কাজ করছেন। তাদের উদ্দেশ্য ২০২৪ সালে সারাদেশে কমপক্ষে ১ মিলিয়ন চারাগাছ রোপণ ও সবার মাঝে বৃক্ষরোপণের জনসচেতনতা তৈরি করা।
পুরস্কার প্রাপ্তির পর অনুভূতি জানতে চাইলে কৃষিবিদ আবুল বাশার মিরাজ বলেন, ‘পুরস্কারটি পেয়ে আমি খুবই খুশি এবং অনুপ্রাণিত। প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে, কৃষি সাংবাদিকতায় এমন একটি পুরস্কারের প্রবর্তন করার জন্য। কৃতজ্ঞতা জানাই জুরিবোর্ডের সবাইকে, তাঁরা পুরস্কারটির জন্য আমাকে যোগ্য মনে করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি আমার কাছে অনেক আকাঙ্ক্ষিত একটি পুরস্কার। ভীষণ ভীষণ ভালো লাগছে। সেই সঙ্গে ভয়ও লাগছে। এই উপহারটি আমার দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল। ভবিষ্যতে দেশের স্বার্থে, দেশের কৃৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে কৃষি সাংবাদিকতা ও লেখালেখির কাজটি করতে চাই।’
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com