ads
ঢাকাসোমবার , ১৯ আগস্ট ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

কাঁটাবনে পশুপাখিদের নিরাপত্তা: নির্মমতার অবসান ও সচেতনতার প্রয়োজন

মতামত বিভাগ
আগস্ট ১৯, ২০২৪ ৯:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আর্শিনা ফেরদৌস: কাঁটাবন, ঢাকার এক বিখ্যাত স্থান যেখানে বইয়ের বাজার ও পোষা প্রাণীর দোকান পাশাপাশি রয়েছে। তবে, এই এলাকাটি পশুপাখিদের জন্য নিরাপদ নয়, বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে তাদের জন্য নরকসম। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য পাখি, কুকুর, বিড়াল এবং অন্যান্য প্রাণী নির্মমতার শিকার হয়, যা অবিলম্বে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।

কাঁটাবনের পোষা প্রাণীর বাজারে প্রতিনিয়ত এমন কিছু দৃশ্য দেখা যায় যা মানুষের হৃদয় কাঁদিয়ে তোলে। ছোট ছোট খাঁচায় অসংখ্য পাখি বন্দী থাকে, যেখানে তাদের ডানা মেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই। গরমের দিনে পর্যাপ্ত পানি এবং খাবারের অভাবে তারা ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়। অন্যদিকে, বিড়াল এবং কুকুর ছানাগুলোকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় যত্নের কোন চিহ্নও নেই। এদের অনেকেই জন্ম থেকেই অসুস্থ, এবং অনেক ক্ষেত্রেই এদের জীবন কিছুদিনের বেশি স্থায়ী হয় না।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই নির্মমতা অনেক সময় আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়। অনেকেই জানেন না যে, প্রাণীর উপর এই ধরনের নির্মমতা আইনত অপরাধ। ফলস্বরূপ, এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে এবং এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হয় অসহায় প্রাণীগুলোকেই।

প্রথমত, পোষা প্রাণী বাজারে সচেতনতার অভাব একটি প্রধান সমস্যা। ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র লাভের কথা ভাবেন, প্রাণীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের কথা ভাবেন না। এছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারাও অজ্ঞাত থাকে যে, এই পশুপাখিরা কিভাবে এখানে এসে পৌঁছেছে এবং তাদের অবস্থা কেমন। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা না থাকার ফলে ব্যবসায়ীরা বিনা বাধায় নির্মমতার আশ্রয় নিতে পারে।

এই সমস্যার সমাধানে আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। কাঁটাবনের মতো স্থানে পশুপাখির অধিকার সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে বিভিন্ন প্রচারণা চালাতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রচারণা চালানো যেতে পারে, যাতে মানুষ এই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, পশুপাখির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ করা প্রয়োজন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ানো এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে নির্মমতার শিকার হওয়া পশুপাখিদের সুরক্ষা দিতে হবে। আইনের আওতায় অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউই প্রাণীর উপর অত্যাচার করতে সাহস না পায়।

প্রাণীর প্রতি নির্মমতা প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের নিজেদের মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে পশুপাখিদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যারা পোষা প্রাণী পুষতে চান, তাদের আগে ভালোভাবে জানতে হবে যে, সেই প্রাণীর যত্ন কীভাবে নিতে হবে। এছাড়াও, যারা কাঁটাবন থেকে পোষা প্রাণী কিনতে চান, তাদের অবশ্যই সেই প্রাণীগুলোর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং প্রয়োজনে পশুপাখি উদ্ধারকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বিদেশে দেখা যায়, পশুর জন্ম নিয়ন্ত্রনের সঠিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে। সেখানে অসহায় পশুদের স্পে, নিউটার করে ছেড়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশেও এ ধরণের ব্যবস্থা করা দরকার।

কাঁটাবনের পশুপাখির বাজারে যে নির্মমতা চলমান, তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। এই নির্মমতা বন্ধ করার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার, যা শুধুমাত্র আইনগত নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। প্রাণীগুলোও আমাদের মতো অনুভূতির অধিকারী, তাদের প্রতি নির্মমতা রোধ করতে হবে।

কদিন আগে ভারতের ঝাড়গ্রামে একটা অন্তঃসত্বা হাতির উপরে নির্মমভাবে পেট্রোল ঢেলে মেরে ফেলা হয়েছে যা সারা পৃথিবীতে আলোড়ন তুলেছে। আমাদের দেশের চিড়িয়াখানায় অমানবিক নিষ্ঠুর ভাবে অনাহারে রেখে পশুদের প্রদর্শন করা হয়, এসব চিড়িয়াখানা বিলুপ্ত হওয়া উচিত। এদের চিকিৎসা ও নির্বাসনের দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলো আমাদের নাগরিক দাবী, যেহেতু পশুপাখিরা পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষের আগে এসেছে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী প্রায় ১৮০০০ প্রজাতির পশু পাখিদের সৃষ্টি করা হয়েছে, তাদের বিশাল ভুমিকা পৃথিবীতে। আশার কথা কিছু উদ্যমী মানুষ এদের সুরক্ষাকল্পে কিছু প্রতিবাদী কার্যক্রম শুরু করেছেন। তাদের সাধুবাদ জানাই।

এছাড়া, পশুপাখি উদ্ধারকারী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা সমাজের প্রত্যেকেই অবদান রাখতে পারি। অনেক সংগঠন এই প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে, চিকিৎসা দেয়, এবং তাদের জন্য নতুন ঘর খুঁজে দেয়। তাদের সহযোগিতায় আমরা এই নির্মমতা থেকে পশুপাখিদের রক্ষা করতে পারি। সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং মানবিকতা জাগ্রত করলেই আমরা এই নির্মমতার অবসান ঘটাতে পারবো।

লেখক: কবি ও কলামিস্ট। 

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।