ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে ১৮৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে কোনো ওষুধ নেই। একই সঙ্গে, ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না এসব ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডাররা। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাদান কার্যক্রম জোরদারকরণ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে আসে।
সেমিনারে উপস্থিত হেলথ প্রোভাইডাররা জানান, শুধু ওষুধ ও বেতন নয়, তারা কোনো ইনক্রিমেন্ট পান না, মৃত্যুর পর ১১৬ জন প্রোভাইডার অবসর সুবিধা পাননি, ক্লিনিকগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিংবা পর্যাপ্ত জনবল। একজন প্রোভাইডার ছাড়া কোনো সহায়ক কর্মচারীও নেই এসব ক্লিনিকে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিকের বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করে এসব ক্লিনিককে যুগোপযোগী রূপে গড়ে তোলা হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে গর্ভবতী ও প্রসূতি সেবা, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি ও ইপিআইসহ সকল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”— তিনি হেলথ প্রোভাইডারদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোজাম্মেল করিম, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ কাজল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজিয়া আক্তার চৌধুরী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের জন্মগত অধিকার। ক্লিনিকের সমস্যাগুলো জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সমাধান সম্ভব।” তিনি সকল পক্ষকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার পারভীন সুলতানা, মাজেদুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, তানিয়া আক্তার, খাইরুল আলমসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন এবং সরাসরি তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com