আর্শিনা ফেরদৌস
জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়ে গেছিল সে চারটি বছর পর
বেশ ভালোই কাটল দিন গুনে
কটা বন্ধু জুটেছিল, একসাথে খাওয়া হাগা মুতা সব সাথে, কি ঐক্য,
আজ তাদের ছেড়ে আসতে কষ্ট পাচ্ছিল সে
দুজন দাগী আসামি, তাকে আপন করে ফেলেছিল,
পাজি ছিল মাস্তান টাইপ প্রভাব যাদের আছে
তারা, ঐক্য হয়নি সেখানে, কিন্তু এরাও নাকের খাবারটা দিয়েছে,
এদেশে ঐক্য হয় বাসে বসে ট্রেনে আর ওয়েটিংরুমে, কখনও তাসের আড্ডায় বা দেশীমালের ভাটিতে।
কতদিন মাল খায়নি সে, গায়ের রঙটা ফিরেছে, ঠিক মা যখন গোসল করাতো
তারপরে রঙটা খুলে যেত। যাক একটা
শান্তি, মা আর সামনে নাই,
বাবা তো থেকেও নাই
আজ এই তো কাল সেই
কত মা
মা মা করে হঠাৎই চিৎকার ছাড়ে সে
মা'কে ফেরাতে ঐক্য কাজ করেনা,
মা'কে উধাও করতে ঐক্যবদ্ধ।
ঐক্য নেই সামনাসামনি
ঐক্য নেই ভেতর বাহিরে,
কটা খেয়ে সটান ঘুমাতে যাওয়ায় ঐক্য হয়, দুইপয়সা বেতন পেয়ে বামহাতের চাকরি পেতে ঐক্য হয়।
আর কে কে তাকে দেখার আছে,
তার ভাইয়ের মেয়ে ছিল কাকু বলে
কোলে লাফিয়ে পড়তো, তাকে ছাড়া
স্কুলে যাবেনা, খাবেনা
এখন হয়তো কাকুর সামনে আসতেই দিবেনা
কাকু চোর, অফিসের টাকা পাচার
করতে সাহায্য করেছে,
মার খেয়েছিল, ঐক্যবদ্ধ হাতে,
টাকা গেছে একজনের একাউন্টে।
পরিবারসহ সাতপুরুষ বসে খেতে পারবে।
পাশের বাসার চাচা কি তাকে খোঁজে?
হাসপাতালে মাঝে মাঝে সাথে যেত,
চারটি সন্তান ওষুধ বা ডাক্তার দেখাতে ঐক্যবদ্ধ ছিল না।
চাচা কি আছেন?
বাড়ি গিয়ে কি দেখবে সে
একভাই ভাবি, দুটো বাচচা
তারা কেউ ঐক্যবদ্ধ নয়,
হঠাৎ দুরে চোখ যায়,
হাড্ডিসার দুটো কুকুর তার দিকে তাকিয়ে,
সার্কাসের জন্তুর মত দেখছে,
সে এগিয়ে গেল,
একটু নড়ে উঠে যেতে চেয়ে
আবার ফিরল ওরদিকে,
কুকুরগুলো ওর দিকে তাকিয়ে রইল
একবার হাত তুলল,
মানুষের অভ্যাসবশতঃ" দুর ভাগ"
ভয় পেয়ে একটু সরে গেল কুকুরগুলো
আবার তাকে ঘিরে ঘিরে
হেঁটে কাছেই দাঁড়িয়ে রইল,
কিছুক্ষন পর আরও কটা
এসে দাঁড়াল,
ভালোই লাগছিল তার।
একটা স্বস্তি পাচ্ছিল।
আপনজনের সাথে থাকলে যেমন লাগে।
হেঁসে উঠলো সে, এরাই তো কাছের কেউ । গাছের পাতায় পাতায় বাতাস বইছিল।পরন্তবেলায় রোদ কমে এল
একটু পিয়াস পেল তার, কাছের চা দোকানে এগুলো, সাথে কুকুরগুলোও,
সে আর ঐক্যবদ্ধ হবেনা
যদি ঐক্য গড়তে হয়
কুকুরের সাথে গড়বে।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com