ads
ঢাকারবিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিলমে হার্ভার্ড, ব্রেইনমে পলিটিক্স

মতামত বিভাগ
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৪ ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ড. সুমাইয়া কিবরিয়া: বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক আচরণ খুবই অদ্ভুত। এখানে রাজনীতি করা মানুষজন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দলীয় ছায়াতলে নিয়ে আসে এই আশা জাগিয়ে যে, “শিক্ষা ব্যবস্থার অচলায়তন ভাঙিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়কে অক্সফোর্ড-কেম্ব্রিজ হার্ভার্ড এ রূপান্তরিত করিবো।

কিন্তু  ‘অচলায়তন’ না ভেঙে যা ভাঙার প্রতিশ্রুত হয় আর আসলেই যা ভাঙতে উদ্যত হয়, তা কমবেশী আমরা সকলেই জানি। বরং দেশীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে, পরিবার ও স্কুল-কলেজ হতে শেখা ভালো সংস্কৃতিগুলোও শিক্ষার্থীরা স্নাতকে উঠে ক্লাসে, হলে ও রাস্তায় আর টিকিয়ে রাখতে পারেনা। ভালো সংস্কৃতিগুলোর অন্যতম হচ্ছে: শিক্ষকদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম, নিয়মিত লেখাপড়া, সততার দীক্ষা দেশ ও দশ তথা সমাজে ব্যাপৃত করা ইত্যাদি।

অথচ শিশুকাল থেকেই আমরা “শপথ গ্রহণ করিতেছি যে, দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখিবো…..।” রাজনীতি করতে গিয়ে এই শপথ স্নাতকের প্রথম বর্ষেই পরিবর্তিত হয়ে “অমুক ভাইয়ের সেবায় নিয়োজিত থাকিবো” হয়ে যায়। তাহলে অনার্স-মাস্টার্স-পিএইচডি-পোস্টডক শেষে শিক্ষকরা যে ছাত্রজীবনের শপথ পুরোপুরি ভুলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। তখন তারা সরকারি গবেষণা প্রকল্প পাওয়ার জন্যই হোক, প্রক্টর-প্রো ভিসি কিংবা ভিসি পদের জন্যই হোক, দলমতের উর্ধ্বে উঠে কায়মনোবাক্যে শপথ পাঠ করে: “নিজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখিবো!

কারণ, কপাল আরেকটু ভালো হলে কিংবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপদেষ্টাও হয়ে উঠতে পারা যায় বৈকি! অত:পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া খুবই স্বাভাবিক, এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর  “দিলমে হার্ভার্ড, মাগার ব্রেইন মে পলিটিক্স!” তাই রাজনীতির করাল গ্রাস থেকে রক্ষার নিমিত্তে, ছাত্ররাজনীতির সাথে সাথে শিক্ষক রাজনীতিও ক্যাম্পাসগুলো থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করা উচিত। নইলে পাওয়ার প্র‍্যাকটিসের দরুন ঝরে যাবে অনেক নিরীহ প্রাণ, মুছে যাবে শত শত মেধাবীর নাম।

বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই কোন বিশেষ দলের রাজনৈতিক নেতাদের অভয়ারণ্য হতে পারেনা। এটা কমপ্লিটলি পড়ালেখা ও গবেষণার জায়গা, দেশের প্রয়োজনে “থিংক ট্যাংকস (Think Tanks)” তৈরীতে ও জ্ঞানসমুদ্রে অবগাহনের জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত নিরাপদ স্থান।

সমগ্র বিশ্বের জ্ঞান নিয়ে গবেষনা, গভীর জানাশোনা ও বিবিধ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্যই পৃথিবীর প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হয়েছে। শুধুমাত্র রাজনীতিক তৈরীর কারখানা হিসেবে নয়।

স্টুডেন্টদের মধ্যে লিডারশীপ পটেনশিয়াল  (নেতৃত্বের দক্ষতা) তৈরীতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। যেমন: ডাকসু, বাকসু ইত্যাদি। কিন্তু এইসব নির্বাচনে দেশীয় রাজনীতির ছায়াও থাকতে পারবেনা। দেশের প্রয়োজনে সাধারণ ছাত্ররাই বারবার যুদ্ধ করেছে, করবে। তার জন্য দলীয় রাজনীতির কোন প্রয়োজন পড়েনা।

আমার মতে, যাদের লেখাপড়ার চেয়ে ক্যাম্পাসে রাজনীতির প্রতি আগ্রহ বেশি, তারা ভিলেজ পলিটিক্স তথা এলাকার রাজনীতি করলেই পারে! আর যাদের “পাওয়ার প্র‍্যাকটিস” এর ইচ্ছা বেশি, তারা অনার্স মাস্টার্স না করে বরং ডিরেক্টলি তাদের নেতা-মন্ত্রীদের সশস্ত্র বডিগার্ডের চাকরি নিক, তাহলেই বরং আখেরে ভালো লাভ করতে পারবে। জ্ঞান যদিও সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নয়। একটা ইন্সটিটিউশনে পড়তে হলে, সেখানকার এটিকেট ও কার্টেসি জানতে হয়। অন্যদের বিরক্ত না করে সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে একটা ডিগ্রী নিয়ে বের হয়ে আসতে হয়, সেই ডিগ্রী দেশ ও দশের কাজে লাগাতে হয়।

শুধুমাত্র অর্থের জন্য, ক্ষমতার জন্য বা লোক দেখানোর জন্য আদতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীর কোন প্রয়োজনই নেই। যেকোন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী সার্টিফিকেট ও গৎবাধা প্রশংসাপত্র না দিয়ে আসলেই ঐ শিক্ষার্থী ঐ ডিগ্রীর উপযুক্ত কিনা, তা খুব ভালোভাবেই প্রতি বছর যাচাই করা উচিত। সেই সাথে নির্দিষ্ট সময় পরপর শিক্ষকদেরও গৎবাধা অটোপ্রমোশন না দিয়ে, যে সকল শিক্ষক একাডেমিকস এ ভালো, গবেষণায় ভালো, আন্তর্জাতিক জার্নালে পেপার এর সংখ্যা, সাইটেশন ও গুণগতমান ভালো, যারা চমৎকার ক্লাস নেওয়া শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক, শুধুমাত্র তাদেরকেই লেকচারার থেকে প্রফেসর পদে উন্নীত করা উচিত, নচেৎ একেবারেই নয়। দেশের  মেরুদন্ডকে (অর্থাৎ শিক্ষাব্যবস্থাকে) কুঁজো থেকে ঋজু করতে এই উপায়ের কোন বিকল্প নেই।

লেখক: পিএইচডি, এনিম্যাল বায়োরিসোর্সেস সায়েন্স (সাউথ কোরিয়া), ফ্রিল্যান্স রিসার্চার এন্ড কনসালটেন্ট।

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।