ads
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  1. কৃষি ও পরিবেশ
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. ধর্ম
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. ভ্রমণ
  8. মতামত
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সাক্ষাৎকার
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে

মতামত বিভাগ
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম: একুশ আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে শক্তি ও সাহসের অনুপ্রেরণা। একুশ আমাদের চেতনা শাণিত কথার এক বড় অস্ত্র। একুশ মানে অন্যায়েরর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া। যতদিন বাঙালি আর বাংলা ভাষা থাকবে ততদিন একুশ আমাদের সামনে চলার আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাবে অন্ধকার থেকে আলোর পথে চলতে। একুশ আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে এক অবিনাশী চেতনার নাম। একুশ আমাদের কন্ঠে ভাখা দিয়েছে, হৃদয়ে দিয়েছে আবেগ, চেতনায় জাগিয়েছে দৃঢ়তাসহ বুকে দিয়েছে সাহস। একুশ আমাদের মুক্তির চেতনায় উদ্দীপ্ত করেছে। যেমনটি উদীপ্ত করেছে সাঈদ কিংবা মুগ্ধদের ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুথানে। তাদের পথ অনুসরণ করে বর্তমান প্রজন্মকে যথাযথভাবে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে আমাদের ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ করে দিতে হবে যাতে তারা একুশের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সত্য ন্যায়েরর পথে এগিয়ে যেতে পারে। দেশকে, দেশের মাটিকে ভালবাসতে পারে হৃদয় থেকে। একুশের চেতনায় বাঙালি বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখেছে। একুশ শক্তি ও সাহস জোগাবে বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ে। একুশ আমাদের হৃদয়ে থাকবে আলোর পথের দিশারী হয়ে।

 

ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব শ্রেণীপেশার বাংলাদেশি মানুষ এ দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যই স্মরণীয় হয়ে আছে, তা নয়। এ দিনটি বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বে মিশে আছে এবং থাকবে চিরদিন। বাংলাদেশের মানুষের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে একুশে ফেব্রুয়ারি প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো জাতি তাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে এভাবে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেয়নি।

 

বাংলাদেশের মানুষের এ বিরল ত্যাগ ও বিসর্জনের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখার জন্যই জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করে থাকে।

 

একুশের ইতিহাস আমাদের সকলেরই জানা। পাক-হানাদার বাহিনীর মত আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫টি বছর জুলুম অত্যাচার করেছে, সর্বশেষ জুলাই মাসে মানুষকে দমন করতে চেয়েছিল গুলি করে। কিন্তু মানুষ বুক পেতে দিয়েছেন। শ্লোগান উঠেছিল, ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, সংস্কৃতিকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, অভিয়নশিল্পী, সংগীতশিল্পী, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্তকর্তা কর্মচারী, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য, সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণী-পেশা মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার আর টিকতে পারেনি।

দেশের সাধারণ মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে, বিবেক ও নীতিনৈতিকতার আলোকে আমাদের সবাইকে উদ্ভাসিত হাতে হবে। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বত্র জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সব নাগরিক যাতে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে সমানভাবে কাজ করতে হবে। শুধুমাত্র ঢাকা বা চট্টগামের অভিজাত এলাকার সন্তান যে ধরনের শিক্ষাসুবিধা লাভ করে, দেশের একদম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও ওই একই রকম শিক্ষাসুবিধা পাবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। দেশের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। তাই পুরো রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। জানি, সবকিছু একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়। আমাদের ধীরগতিতে ক্রমাগত পরিবর্তন ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কণ্টকাকীর্ণ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যেসব শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন বা বিভিন্নভাবে এ আন্দোলনকে উজ্জীবিত করেছেন, তাঁরা আমাদের এ পথের সন্ধান দিয়েছেন। আমাদের সে পথ ধরে সামনে অগ্রসর হতে হবে। অমর একুশের ভাষাশহীদদের স্মৃতিবিজড়িত ফেব্রুয়ারি আমাদের এমন এক আবেগের কেন্দ্রে অবস্থান নেয়, যা কেবল একটি মাস মাত্র নয়, একটি চেতনা। সারা পৃথিবীতেই ফেব্রুয়ারি আসে, বাংলাদেশে যেভাবে ফেব্রুয়ারি আসে, তেমন করে আর কোথাও নেই। ফেব্রুয়ারির গোটা মাসটাই আমাদের গৌরবের আর আত্মমর্যাদাপূর্ণ ত্যাগের স্মৃতিতে ভাস্বর।

সালাম, বরকত, রফিক, শফিউরের মতো আত্মত্যাগী বাঙালীর রক্তের বিনিময়ে পাওয়া একুশ আমাদের স্বাধিকার চেতনা তথা স্বাধীনতার বীজ বোনার মাস। বীজ বোনা হয়েছিল রক্তস্নাত চেতনার ভূমিতে, সেই ফেব্রুয়ারি এলেই সচেতন নাগরিক মাত্রই নতুন করে শক্তি উপলব্ধি করেন। কিন্তু একুশের চেতনা বা স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার বোধ শুধু সচেতন নাগরিকদের মধ্যে জেগে থাকলেই হবে না, সার্বিক জাতীয়জাগরণের জন্য তা আমজনতার মধ্যেই ছড়িয়ে দিতে হবে। যত দিন তা আমরা পারব না, তত দিন আমাদের জাতীয় ঐক্যের অন্তরায় দূর হবে না।

ভাষা আন্দোলন আমাদের কম দেয়নি। আমাদের স্বাধীনতার জন্ম রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের গর্ভ থেকেই। অমর একুশে এখন বিশ্বব্যাপী একটি স্মরণীয় দিনও। সিকি শতাব্দী আগেও কখনো বাংলাদেশের সঙ্গে একই সমান্তরালে বিশ্ববাসীর কাছে স্মরণীয় ছিল না একুশে ফেব্রুয়ারি। বিশ্বময় আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এই দিনটি। জাতি হিসেবে আমাদের জন্য এ কম গৌরবের নয়। বাহান্ন থেকে ২০২৫। দীর্ঘ সময় দেখতে দেখতে ৭৩ বছর অতিক্রান্ত। কিন্তু এতটুকু আবেদন ফুরোয়নি একুশের। বরং যতই দিন গিয়েছে শোকের স্মৃতি ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে শক্তিতে এবং বিশ্বময় মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় তা উন্নীত। কিন্তু সেই অর্জন এবং উন্নয়নকে আমরা কতখানি ব্যবহার করতে পারছি, সেটাও ভাবতে হবে এখন।

অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশে অনেক অগ্রসর হয়েছে, যা বিশ্ববাসীর কাছে এখনো বিস্ময়। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করা মানেই টেকসই উন্নয়ন নয়। অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি অনিবার্যভাবে প্রয়োজন। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করা না গেলে সে সমাজের উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়িত্ব পায়না এবং তা যথাযথ কল্যাণ-রাষ্ট্রের কাজেও লাগে না। সাহিত্য মানুষের মধ্যে সৌন্দর্যবোধের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে। জ্ঞানভিত্তিক সেই সমাজ গড়ে না ওঠায় আজকে বাংলাদেশে নির্মম আত্মকেন্দ্রিকতা আর স্বার্থান্বেষী নিষ্ঠুরতার সংস্কৃতি সর্বত্র বিরাজমান। এ থেকে পরিত্রাণের পথ একটাই তা হচ্ছে মানবিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করা।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী সরকারে পতনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন আকাংখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। এমনই এক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পালিত হতে যাচ্ছে এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

একুশে ফেব্রুয়ারি যুগে যুগে আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। বিশেষ করে ৫২, ৬৯ এবং ৭১-এর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় আসীন। একুশের চেতনার পতাকা হাতে নিয়ে তরুণ প্রজন্মের অহংকার তারেক রহমান এর নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ সুন্দরভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হবে। দেশবিরোধী সাবেক স্বৈরাচার গোষ্ঠী এখনো সামগ্রিক অগ্রগতি নস্যাৎ করতে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। মহান একুশের চেতনায় জাগ্রত বাংলার মানুষ অতীতের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেশের আর্থসামাজিক বিকাশ বেগবান রাখবে-এই হোক এবারের একুশের অঙ্গীকার।

লেখক: জাতীয় নির্বাহী কমিটির গবেষণা সম্পাদক, বিএনপি

www.sangbadlive24.com এ প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও সবকিছুই আমাদের নিজস্ব। বিনা অনুমতিতে এই নিউজ পোর্টালের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোন বিষয়ে নিউজ/ফিচার/ছবি/ভিডিও পাঠান news.sangbadlive24@gmail.com এই ইমেইলে।