বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে অ্যাগ্রিভোল্টাইকস (Agrivoltaics) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই জমিতে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এ পদ্ধতি খাদ্য, জ্বালানি ও পানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় সমাধান হতে পারে বলে সেমিনারে বক্তারা বলেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়। আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগের উদ্যোগে ‘Agrivoltaics: A Sustainable Solution for Food, Energy, and Water Security in Bangladesh’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন বলেন, বাংলাদেশের জন্য অ্যাগ্রিভোল্টাইকস তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও এটি সম্ভাবনাময় একটি প্রযুক্তি। একই জমিতে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ হয়েছে। বিশেষ করে চীনে বড় পরিসরে অ্যাগ্রিভোল্টাইকস প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশেও প্রাথমিকভাবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচ প্রকল্পসহ কৃষি ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন এলাকায় এ প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে একই জমিতে ফসল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচের খরচ এবং পানির ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সম্ভাবনাময় এলাকাতেও এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএমডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হাসান জাফির তুহিন বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে অ্যাগ্রিভোল্টাইকসের ধারণাটি বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী। শুধু গবেষণা ও আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রস্তাবিত প্রযুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত পাইলট প্রকল্প নেওয়া প্রয়োজন। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নের পর দেশের উপযোগী এলাকায় এর বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, অতীতে অপরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল প্রকল্প, বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। তাই নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ডেভিসের জৈব ও কৃষি প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, অ্যাগ্রিভোল্টাইকস এমন একটি কৃষিপদ্ধতি, যেখানে একই জমিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সৌর প্যানেলের নিচে বা মাঝের উপযোগী জায়গায় ফসল চাষ করা যায়।
তিনি বলেন, সৌর প্যানেলের আংশিক ছায়া অতিরিক্ত তাপ ও বাষ্পীভবন কমিয়ে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। এতে সেচের পানির প্রয়োজন কমার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সেচপাম্প, কৃষিযন্ত্র এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্বাগত বক্তব্যে আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের কারণে দেশে আবাদযোগ্য জমি কমছে। তাই সীমিত জমিতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষির সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির সমন্বয় করা প্রয়োজন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) সদস্যসচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরি হাবলু এবং এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সচিব প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মাওলা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষিকৌশল বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী মো. বেলাল সিদ্দিকী।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com