ইসলাম যেমন পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা তেমনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে রয়েছে ইসলামের সীমাবদ্ধতা। কবি ও কাব্যচর্চা সম্পর্কে ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট। ছন্দোবদ্ধ ভাষায় যে সকাল পদ্য লিখা হয় তাকে কবিতা বলে। কবিতা কথার মতো। ভালো কথার মত ভালো কবিতাও ইসলামে গ্রহণযোগ্য।
যদিও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবি নন তবুও তিনি কবিদের পছন্দ করতেন। তিনি বলেন: ভাল কবিতা ভাল কথার মত, খারাপ কবিতা খারাপ কথার মত। (সিলসিলা সহীহাহ হা: ৪৪৭) সাহাবীরা অনেক ভাল কবিতা বলতেন। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একজন কবি ছিলেন যার নাম হাসসান বিন সাবেত, তিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষে কাফিরদের কবিতার প্রত্যুত্তর দিতেন।
কবিতা ও কবি দুপ্রকার-
১. যারা অশ্লীল-বেহায়া, অসত্য ও কাল্পনিক-অবাস্তব কথা বলে, মানুষের প্রশংসা ও নিন্দা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে কবিতা রচনা করে এবং আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ, কুরআন ও জ্ঞানচর্চার ওপর প্রবল হয়ে যায় ও শরীয়ত বিরোধী বিষয়বস্তু সম্বলিত হয় তাহলে সে সব কবি ও কবিতা নিন্দনীয়, এরূপ কবি ও কবিতাকে আল্লাহ তা‘আলা নিন্দা করেছেন।
যেমন সূরা শু'আরা এর ২২৪ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছেঃ "وَ الشُّعَرَآءُ یَتَّبِعُہُمُ الۡغَاوٗنَ অর্থাৎ আর বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে।"
হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "তোমাদের কেউ বমি দিয়ে পেট পূর্ণ করুক এটা তার জন্য উত্তম কবিতা দিয়ে পেট পূর্ণ করা থেকে।" (সহীহ বুখারী হা: ৬১৫৪, সহীহ মুসলিম হা: ২২৫৭)
মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে সা'দ (রঃ) তাবাকাতে এবং যুবায়ের ইবনে বিকার (রঃ) কিতাবুল ফুকাহাতে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) তাঁর খিলাফতের আমলে হযরত নুমান ইবনে আদী ইবনে ফুলা (রাঃ)-কে বসরার মাইসান শহরের গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনি একজন কবি ছিলেন।
তিনি কবিতায় বলেনঃ "সুন্দরী মহিলারা কি এ খবর পায়নি যে, তাদের প্রেমিক মাইসানে অবস্থান করছে? যেখানে সদা-সর্বদা শীশার গ্লাসে মদ্যচক্র চলছে? আর গ্রামের তরুণীরা নাচ-গানে মত্ত রয়েছে। হ্যাঁ, যদি আমার কোন বন্ধু দ্বারা এটা সম্ভব হয় তবে এর চেয়ে বড় ও পূর্ণ মদ্যের গ্লাস আমাকে পান করাতে পারে। কিন্তু ছোট গ্লাস আমার নিকট খুবই অপছন্দনীয়। আল্লাহ না করুন যেন আমীরুল মুমিনীনের কাছে এ খবর না পেীছে। অন্যথায় তিনি এতে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন এবং আমাকে শাস্তি দিবেন।
ঘটনাক্রমে সত্যিই এ কবিতাগুলো আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার (রাঃ)-এর নিকট পৌছে যায় এবং সাথে সাথেই তিনি লোক পাঠিয়ে তাঁকে পদচ্যুত করেন এবং তিনি একটি চিঠিও পাঠান।
এ চিঠি পাঠ মাত্রই হযরত নু'মান (রাঃ) হযরত উমার (রাঃ)-এর দরবারে হাযির হয়ে যান এবং অত্যন্ত দ্রতার সাথে আরয করেনঃ “হে আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহর শপথ! আমি কখনো মদ্যপানও করিনি, নাচও দেখিনি এবং গান বাজনাও করিনি। এটা তো শুধু কবিতাসূচক আবেগ-উচ্ছ্বাস ছিল।”
তাঁর একথা শুনে আমীরুল মুমিনীন বলেনঃ “আমারও ধারণা এটাই ছিল। কিন্তু আমি তো এটা সহ্য করতে পারি না যে, এরূপ অশ্লীলভাষী কবিকে কোন পদে রেখে দিই।”
এছাড়া খলীফা উমার (রাঃ) প্রশাসক আদী বিন নযলাকে অশ্লীল কবিতা বলার কারণে পদচ্যুত করেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةً কতক কবিতা রয়েছে যা হেকমতপূর্ণ। (সহীহ বুখারী হা: ৬১৪৫)
সুতরাং কবিদের সতর্ক হওয়া উচিত সে কী কবিতা বলছে, যদি ভাল হয় তাহলে ভাল, আর মন্দ হলে তার মন্দ পরিণাম নিজের ওপর বর্তাবে।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com