বদরুল শাওন: ১৯৫০ সালে Betty Croker নামের একটি কোম্পানি বিশেষ এক ধরনের কেক মিক্স বাজারে আনে। যেটা পরিমাণ মতো পানিতে গুলে ওভেনে বসিয়ে দিলেই কেক হয়ে যেতো।কিন্তু তখনকার ঘরনিরা এটা গ্রহণ করে নি। কারণ এতে “পরিবারের জন্য কিছু করছি” এমন উপলব্ধির জন্য আনন্দ পান নি।
বুদ্ধি করে কেক মিক্সের উপাদানে পরিবর্তন আনে। যেখানে কেক মিক্সে একটা ডিম ভেংগে মিশাতে হতো। এই ছোট্ট পরিবর্তন দারুণ সাড়া ফেলে, গ্রহনযোগ্যতা পায়।
মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির বিখ্যাত স্টাডি হিসেবে পঠিত ঘটনাটা ইন্টারনেট থেকে পাওয়া। সেই সময়কার বাস্তবতা কি ছিল আল্লাহ মালুম।
তবে এখন সময় পাল্টেছে। মানুষ এখন অনেক ব্যাস্ত। এতোটাই ব্যাস্ত যে একটা স্যালাইন বানিয়ে খাওয়ার ফুরসৎ নেই তাদের।
স্যালাইন আবিষ্কারের পর থেকে এমন “ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংক্স”-এর হুজুগ মানুষ আগে কখনো দেখেনি। ছয় টাকার স্যালাইন আধা লিটার পানিতে গুলে খেতে মানুষের অনীহা দেখার মতো।
৩০-৩৫ টাকায় ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংক্স কিনে খাই আমরা। যাস্ট স্যালাইন গুলে খাওয়ার ফুরসৎ, আগ্রহ নাই বলে!
অথচ আমরা পরিবেশ রক্ষার জন্য দারুণ সোচ্চার! প্লাস্টিক দূষণ রোধে আমাদের প্রচারণা দেখার মতো!
প্লাস্টিক রিসাইকেল দরকার আছে। কিন্তু প্লাস্টিকের বিকল্প লাইফস্টাইল এডপ্ট করার অপশন আছে এটাই ভুলিয়ে দেয়া হয় আমাদের!
এই গরমে ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংক্সের হুজুগ পড়েছে। ডাক্তাররাও জোরেশোরে লেখালেখি করছেন পত্রিকায়। ভিডিও নিউজে গলা ফাটাচ্ছেন, “স্যালাইন পরিমাণমতো পানিতে গুলে না খেলে হতে পারে কিডনি জটিলতা, সোডিয়াম ইমব্যালেন্স এর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি!” কথা সত্য বলছেন, বিজ্ঞানসম্মতই বলছেন। অহেতুক স্যালাইন খাওয়া উচিৎ নয় তাও বলছেন।
তবে এগুলো মোটাদাগে ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংক্স বিক্রেতাদের ব্যাপক সুবিধা দিবে। ছয় টাকার স্যালাইনের পরিবর্তে ৫-৬ গুন বেশি দামের ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংক্স বিক্রি সহজ হবে তাদের! কারণ ওতে টেকনিকালি পানি-লবণ রেশিওতে সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।
কিন্তু পরিবেশের কথা চিন্তা করা, প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্য ভেবে কেও বিকল্প বলছেন না। বলছেন না,
-আপনারা একটা পূনর্ব্যাবহার উপযোগী পানির বোতল সাথে রাখেন।
-ওয়াটার বোটল ব্রান্ড গুলো পানির পরিমাণ বোঝা যায় এমন বোতল প্রস্তুত ও প্রমোট করেন।
-আধা লিটারে গুলে খাওয়ার উপযোগী স্যালাইনের পরিবর্তে ২৫০ মিলিতে গুলে খাওয়ার উপযোগী স্যালাইন বাজারে আনেন।
-প্রচলিত গুড়া স্যালাইনের পরিবর্তে ট্যাবলেট শেপের স্যালাইন বাজারে আনেন যাতে জায়গা সাশ্রয় হয়, পরিমাণে হেরফের না হয়, পরিবহন ও সংরক্ষণ সহজ হয়।
এগুলো কেও বলবে না। কারণ এগুলো পরিবেশের জন্য ভালো হলেও হতে পারে, কোম্পানির রেভিনিউয়ের জন্য তো ভালো নয়!
লেখক: শিক্ষার্থী, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com