নন্দিনী লুইজা: কিছু কিছু ভাবনা মাঝে মাঝে নিজেকে ভাবিয়ে তোলে। তা হলো একটা ভাবনার মধ্যে দিয়ে চলা আমরা যারা সমাজে স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে এসে কাজ করি, সৃজনশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত, আমরা ধরেই নেই এদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকার পাশাপাশি আশেপাশের মানুষের সহযোগিতা থাকে।
কিন্তু বিষয়টা ভুল কেননা প্রতিটা মানুষই বেড়ে ওঠার পাশাপাশি তার নিজের ব্যক্তিসত্তা দিয়ে বড় হতে থাকে। তাই পরিবার চাপিয়ে দিলেই যে একটা মানুষ সেই পরিবারে আদলে বড় হবে তা কিন্তু নয়। আজকে যে বিষয় নিয়ে লিখছি সেটা আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলাফল।
প্রত্যেক মানুষের জীবনযাত্রা টা এমন জন্ম হবে, বড় হবে, লেখাপড়া শিখে চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য যা করার করবে, সংসার করবে, ছেলে মেয়ে উৎপাদন করবে, তাদেরকে মানুষ করবে, ঠিক চলমান প্রক্রিয়া যেভাবে চলে ,সেভাবে চলতে চায়। কিন্তু ইতিহাস তা বলেনা। ইতিহাসে তাদের নাম স্থান পায় যারা কিনা নতুন কিছু ঘটায় এবং সংগ্রামের জীবন দিয়ে সমস্ত প্রতিকূলতার অতিক্রম করে একটা সত্য দাড় করিয়ে ফেলে, আগামী প্রজন্মের জন্য। যা কিনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। তা না হলে মানুষ বেঁচে থাকার রসদ পেতো কোথা থেকে।
বিশেষ করে যারা সৃজনশীল কাজে নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করেছেন বা করছেন তাদের পরিবার যে সবকিছু সহজভাবে মেনে নেয় তা কিন্তু নয়। অনেক সময় প্রতিবাদ করতে না পেরে অথবা সন্তান বোখে যেতে পারে অথবা সন্তান হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে, তারা সন্তানের এই সৃজনশীলতাকে মুখ বুজে সহ্য করে। বিষয়টা এমন দাঁড়ায় আমরা সৃষ্টিকর্তার ভয়ে যত না আরোষ্ট থাকি তার চেয়ে বেশি আতঙ্ক ,ভয় এবং কথার সম্মুখীন হই, পারিপার্শ্বিকতার কারণে আত্মীয়-স্বজনের কারণে যদিও তারা আমাদের জীবনযাত্রায় তেমন একটা ভূমিকা রাখেনা, তবে কাউকে কথা বলতে তাদের বিন্দুমাত্র বাঁধে না। যা কিনা মানুষের চলার পথ বাধা প্রাপ্ত হয়। আমার মনে হয় এটা এক ধরনের জেলাসি। তারা নিজেরা পারে না দেখেই অন্যের বিষয়টা সহজ ভাবে নিতে পারে না। সব সময় তারা ভাবতে থাকে আমি যেমন অন্য জনেরা আমার মতোই শুনবে, চলবে ,খাবে, পড়বে।
শত কথা কবর দিয়ে নিজের চিন্তা চেতনা ভাবনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি। সন্তানরাও তাদের ভাবনায় বড় হতে চেয়েছে। সেখানে পরিবারে বাবা মা হিসেবে আমরা অনুপ্রেরণা দিয়েছি তারই ফলস্বরূপ যখন সন্তানের সাফল্য দেখি সত্যি পাশে কে কি বলল না বলল তা কানে ঢুকে না। সুতরাং অন্যের কান কথায় কান না দিয়ে, মন খারাপ না করে আপনি আপনার স্বকীয়তাই ধরে রাখুন, দেখবেন সাফল্য একদিন আসবেই আসবে।
লেখক: শিক্ষক, লেখক, বঙ্গবন্ধু গবেষক ও প্রকাশক
বর্ণপ্রকাশ লিমিটেড


