বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) যেকোনো গবেষকের হাতে আগামী ১০ বছরের মধ্যে নোবেল পুরস্কার দেখতে চান—এমন দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) ‘প্রিসিশন ব্রিডিং টু ট্রান্সফর্ম ডেইরি এক্সেলেন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের উদ্যোগে।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, “বাকৃবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের গবেষণা করতে সক্ষম। একাগ্রতা, পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী এক দশকের মধ্যেই আমাদের কেউ নোবেল জিতুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
উপাচার্য আরও বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরা এখনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির চেয়ে ব্যক্তিগত ধারণা ও অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে গরু পালন করেন। কোন গরু বেশি দুধ দেবে—এটাই এখনো খামারির প্রধান চিন্তা। কিন্তু প্রাণিটির জৈবিক সক্ষমতা, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা—এসব বিষয়ে তাদের ধারণা নেই। উন্নত প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদনশীলতা কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব—এটি তাদের জানাতে হবে।”
তিনি আরও মত দেন, স্নাতক পর্যায়ে যারা প্রতি সেমিস্টারে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেন, তাদের গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত করা প্রয়োজন। “ছাত্রাবস্থায় গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।”—বলেন উপাচার্য।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, আধুনিক জেনোমিক বিশ্লেষণ, সুনির্দিষ্ট প্রজনন কৌশল ও বায়োটেকনোলজির সমন্বয় ব্যবহার করে দেশীয় গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
তাদের মতে, প্রিসিশন ব্রিডিং প্রযুক্তি বাংলাদেশের দুগ্ধশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অগ্রগতি ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।
বক্তারা আরও বলেন, উচ্চমানের জাত উন্নয়ন, রোগ-প্রতিরোধী গবাদিপশু নির্বাচন, দুধ উৎপাদন–অনুকূল বংশগতি চিহ্নিতকরণ এবং ডিজিটাল খামার ব্যবস্থাপনার জন্য জেনেটিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পশু প্রজনন ও কৌলিতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাব–প্রজেক্ট ম্যানেজার অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ভূঁঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, বাউরেস পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঁঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. মুনির হোসেন।


