অস্ট্রেলিয়ার প্যাশন ফ্রুট শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী ড. মোবাশ্বের আলম। আধুনিক জেনেটিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তিনি নতুন, অধিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ, সুস্বাদু ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্যাশন ফ্রুটের জাত উদ্ভাবন করেছেন।
বাকৃবির কৃষি অনুষদের ১৯৯২-৯৩ সেশনের শিক্ষার্থী ড. মোবাশ্বের আলম বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের (UQ) অধীনে পরিচালিত ‘ন্যাশনাল প্যাশন ফ্রুট ব্রিডিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন প্রোগ্রাম’ এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই গবেষণা কর্মসূচির অর্থায়ন করছে হর্ট ইনোভেশন এবং ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড।
উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলো ২০২৭-২০২৮ সালের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে দুটি জাত প্রাক-বাণিজ্যিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও ২০টির বেশি সম্ভাবনাময় জাত গবেষণাধীন আছে। এসব জাত উদ্ভাবনে এআই, উন্নত জেনেটিক সিলেকশন প্রযুক্তি এবং ডেটা-নির্ভর গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে গবেষণার গতি ও নির্ভুলতা বেড়েছে।
ড. মোবাশ্বের আলম বলেন, গত তিন বছর ধরে আমরা প্যাশন ফ্রুট শিল্পে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করছি। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এমন জাত উদ্ভাবন করা যা আকারে বড়, স্বাদ ও পুষ্টিগুণে উন্নত, অধিক ফলনশীল এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য রোগ সহনশীল ও অধিক উৎপাদনক্ষম গাছ তৈরি করাও গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন স্বাদের প্যাশন ফ্রুট নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কেউ মিষ্টি স্বাদের ফল পছন্দ করলে তার জন্য যেমন জাত রয়েছে, তেমনি টক-মিষ্টি বা উচ্চ অম্লতার স্বাদ পছন্দকারীদের জন্যও বিকল্প রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে আকর্ষণীয় বেগুনি রঙের ফলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা দেখতে যেমন নান্দনিক, স্বাদেও তেমনি উন্নত।
দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার প্যাশন ফ্রুট শিল্পে নতুন ও উন্নত জাতের অভাব ছিল। বর্তমানে বাজারে প্রচলিত অনেক জাত কাঙ্ক্ষিত ফলের আকার ও গাছের সতেজতা হারিয়ে ফেলেছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের গবেষকরা গত কয়েক বছর ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে মধ্য কুইন্সল্যান্ড পর্যন্ত মোট ১৯টি স্থানে পরীক্ষামূলক চাষ বা ট্রায়াল পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় আটজন অভিজ্ঞ কৃষক সরাসরি এই গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এমনই একজন অভিজ্ঞ কৃষক কিথ প্যাক্সটন তার খামারে নতুন জাতগুলোর পরীক্ষামূলক চাষে সহায়তা করছেন। তিনি বলেন, নতুন জাতগুলোর স্বাদ ও ফলের গুণগত মান খুবই ভালো। জেনেটিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি গবেষণার গতি বাড়িয়েছে এবং উন্নত জাত উদ্ভাবনকে সহজ করেছে।
ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের কুইন্সল্যান্ড অ্যালায়েন্স ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড ইনোভেশনের গবেষক ড. প্যাট্রিক ম্যাসন বলেন, কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ না করলে বাস্তবসম্মত গবেষণা সম্ভব নয়। তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের গবেষণাকে আরও কার্যকর করেছে।
ড মোবাশ্বের বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্যাশন ফ্রুট শিল্পে ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ‘ভ্যারাইটাল পাইপলাইন’ তৈরি করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর নতুন ও উন্নত জাত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে প্যাশন ফ্রুট শিল্প আরও লাভজনক ও টেকসই হয়ে উঠবেত।
নিউজের জন্য: news.sangbadlive24@gmail.com