খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে তদন্ত করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ৩৭ জন প্রভাষক। যাদের সিলেকশন বোর্ড ছিল প্রশ্নবৃদ্ধ এবং নিয়োগ বাছাই কমিটির সকলের স্বাক্ষরিত নয়।
এর আগে ২০২২ সালের জুনে তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) শহীদুর রহমান খানের সময়ে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল বিষয়ে ৩৭ জনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। যেখানে অধিকাংশ বিভাগে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কম যোগ্যতার প্রার্থীদের প্রভাষক পদে প্রাধান্য দেন তিনি। এছাড়া বিভাগ ভিত্তিক অনুমোদিত প্রভাষক পদের অতিরিক্ত নিয়োগ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, নন-টেকনিক্যাল বিষয় সমূহে প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগ যোগ্যতায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। তবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সাবেক ভিসি পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নন-টেকনিক্যাল বিষয় সমূহে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর না থাকার পরেও তাদেরকে নিয়োগ প্রদান করেন।
জানা গেছে, ৩৭ জন প্রভাষকের নিয়োগ বৈধ করতে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১০ম সভার আলোচ্যসূচিতে প্রভাষক পদে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিভাগ পরিবর্তনের এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে অবৈধ নিয়োগকৃত ৩৭ জন প্রভাষককে আগামী জুলাই মাসে পরবর্তী পর্যায়ন্নোনের পথ সুগম করতেই একাডেমিক কাউন্সিলের ১০.২ আলোচ্যসূচির এজেন্ডা পাশ করেছেন এবং সিন্ডিকেটে উত্থাপন করে অনুমোদনের অবৈধ প্রচেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছেন।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক সমাজ মনে করেন, বিশেষ সুবিধা প্রদানের অপচেষ্টার পিছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্যে, একাডেমিক কাউন্সিলের এই এজেন্ডা বর্তমান ভিসির ক্ষমতাবলে পাশ করিয়ে সিন্ডিকেটে অনুমোদন নিয়ে ৩৭ জন প্রভাষকের অবৈধ নিয়োগকে আইনগতভাবে বৈধকরণের ফন্দি করছে।
তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক নিয়োগ বৈধতার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিভাগীয় প্রধান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এধরণের আইন পরিপন্থী কার্যকলাপ স্পষ্টত দুর্নীতি যা ভবিষ্যতে আবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে; পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও পরিবেশ নষ্ট হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘আমি শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সদস্যই না এবং এর সঙ্গ জড়িতও না। আমার জানা মতে, যাদের যোগ্যতা আছে তাদের বাছাই করে নাম সুপারিশ করেছি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল কাসেম চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিয়োগ পাওয়ার আগের ঘটনা এসব। তবে নতুনভাবে সিন্ডিকেট সাজানো হচ্ছে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’


