গত ১৩ জুন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গঠিত তথাকথিত সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব’ গঠন ও বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিকে (বাকৃবিসাস) উদ্দেশ্য করে প্রচারিত প্রতিবাদ লিপি প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি। শনিবার (১৫ জুন) বাকৃবিসাসের সভাপতি মো. রাফী উল্লাহ ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক তনিউল করিম জীম উক্ত প্রতিবাদ লিপি প্রত্যাখ্যান করে এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন।
সাংবদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের একমাত্র অনুমোদিত সংগঠন বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি। ১৯৬৩ সাল থেকে সুদীর্ঘ ৬১ বছর ধরে বাকৃবির শিক্ষা, গবেষণা, অর্জন ও সাফল্যের সংবাদ সারা পৃথিবীর কাছে তুলে ধরতে দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটির সদস্যরা। এরই মাঝে হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন ২০২৪) সন্ধ্যায় ফেসবুকে পোস্ট করে আত্মপ্রকাশ করে বাকৃবি প্রেসক্লাব নামের তথাকথিত সাংবাদিক সংগঠন। নজিরবিহীন এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারাসাইটোলজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সহিদুজ্জামান ও বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত কতিপয় সদস্য, যারা ইতোমধ্যে একাধিক বিভ্রান্তিকর সংবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সমালোচিত হয়েছেন। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাক্ষরিত কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা, নতুন সংগঠনের কোনো অনুমোদন বা কার্যালয়ের অস্তিত্ব না থাকা এবং ক্যাম্পাস ছুটি চলাকালীন সময়ে কেবল ফেসবুকে নতুন সংগঠনের এমন আত্মপ্রকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের মাঝে তৈরি হয়েছে ধুম্রজাল। বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সাথে নামসর্বস্ব এই সংগঠনের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই এবং হং তাদের তাদের প্রচারিত প্রচারিত কোন কোন বিতর্কিত বিতর্কিত সংবাদের সংবাদের দায়ভার দায়ভার বাকৃবিসাস বার গ্রহণ করবেনা।
তথাকথিত বাকৃবি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিকে উদ্দেশ্য করে প্রচারিত প্রতিবাদ লিপির বিষয়ে সাংবদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বাকৃবিসাসের সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখিত সকল তথ্যের যথাযথ প্রমাণ ও যুক্তি রয়েছে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় বা অসম্মানের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সাংবাদিতার নীতি যথাযথ অনুসরণ করেই প্রকৃত ঘটনার বাস্তব চিত্রই ফুটিয়ে তুলেছেন বাকৃবিসাসের সদস্যরা। সেটিকে মিথ্যাচার বলে দাবি করা সাংবাদিকতা বিষয়ে অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ও মুক্ত গণমাধ্যম চর্চায় প্রতিবন্ধকতা প্রদানের অপপ্রয়াস, যা নিজেদের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব দাবি করা কারও কাছে কাম্য নয়। আমরা সেটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
সংবাদগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন, এমন কোন সংগঠনের অনুমোদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রদান করেননি। এমনকি প্রতিবাদ লিপিতেও তারা তাদের অনুমোদনের পক্ষে কোন প্রমাণ প্রদান করেননি। বরং তারা দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সংগঠনকে অননুমোদিত এবং এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘জানানো হয়েছে’। অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে কেবল ‘জানানো হয়েছে’ দাবি করে নতুন সংগঠনের কমিটি গঠন করে ফেলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গল দেখানোর ধৃষ্টতার সামিল, যার তীব্র নিন্দা জানাই। সাহসিকতা সৃজনশীলতা বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ক্যাম্পাস সাংবাদিক সমিতি।
বাকৃবিসাস সবসময়ই ন্যায়ের পক্ষে থেকে নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা করে আসছে। বাকৃবিসাসের সদস্যরা দেশের শীর্ষস্থানীয় মূলধারার প্রায় সব গণমাধমে প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এরকম একটি সাংবাদিক সংগঠন থাকার পরেও বিতর্কিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রশাসনিক কোনরকম অনুমতি ছাড়াই কিভাবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকটি প্রেসক্লাব গঠন কোন উদ্দেশ্যে, কি স্বার্থে বা কার মদদে এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে বর্ণিত নিয়মতান্ত্রিক যে কোন সংগঠন করার স্বাধীনতাকে বাকৃবিসাস সমর্থন করে। কিন্তু সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন অনুমোদনবিহীন সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবাদ লিপির মাধ্যমে প্রদান একইসাথে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং অনধিকার চর্চা, যা বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি কখনই বরদাস্ত করবে না। ভবিষ্যতে এহন কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাকৃবিসাসকে আক্রমণ করার অপচেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।


